কলকাতা: মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে স্বঘোষিত বাগেশ্বর ‘বাবা’র (Bageshwar Baba) দুর্গাপুজোয় ‘আমিষ’ মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য! যার জল গড়ায় বিধানসভা পর্যন্ত! এমনকি বাগেশ্বরের ছবি পোড়ানোর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গ্ৰেফতার হয়েছেন কংগ্রেস নেতা! এই আবহে এবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে উল্টো সুর স্বঘোষিত ‘বাবা’র গলায়!
সম্প্রতি বঙ্গসফরে নবরাত্রির সময় পুজোমণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার তৈরি ও খাওয়া তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়, বলেছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Bageshwar Baba)। বঙ্গবাসীর উদ্দেশে তাঁর আবেদন ছিল, পুজোর সময় হিন্দুদের আরও সচেতন হওয়া উচিত এবং যারা আমিষ খান, তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ অর্থাৎ ভেকধারী বলা যায়।
তাঁর সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে, কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা যায় কি না। ‘পাখণ্ডী’ শব্দটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আপত্তি দেখা যায়। বিতর্কের আঁচ পৌঁছয় রাজনৈতিক মহলেও।
এর মধ্যেই এবার গ্লাসগো থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba)। তাঁর দাবি, তিনি কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের বিরোধিতা করেননি। বরং তাঁর আপত্তি পুজোমণ্ডপে মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে।
ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর কথায়, “পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে? আমার বলিপ্রথা ভালো লাগে না। কিন্তু কারও খাদ্যাভাস বদলানোর আমি কে?” তিনি আরও বলেন, কেউ নিজের বাড়িতে মাছ-মাংস খাবেন কি না, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর আপত্তি মূলত প্যান্ডেল বা মণ্ডপে আমিষ খাবার নিয়ে।
বাগেশ্বর বাবার দাবি, “কেউ তার বাড়িতে মাছ-মাংস খেতেই পারে, সেটা তার সিদ্ধান্ত। আমি প্যান্ডেলে মাছ-মাংস খেতে বারণ করেছি।”
শুধু নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাই নয়, এবার বাংলার সঙ্গে নিজের যোগের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। নিজেকে বাঙালি দাবি করে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Bageshwar Baba) টেনে এনেছেন স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণদেবের প্রসঙ্গ।
তাঁর কথায়, “ভুল বুঝবেন না। আমিও বাঙালি, বিবেকানন্দ-রামকৃষ্ণের শিষ্য। আমি শুধু ধার্মিক হিসেবে মণ্ডপে মাছ-মাংস নিতে বারণ করেছি।”
অর্থাৎ, কয়েক দিন আগে যে মন্তব্যে বাংলাজুড়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এবার সেই মন্তব্যেরই ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অবস্থান অনেকটাই আলাদা করে তুলে ধরলেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্যে কি তবে বিতর্কের অবসান হবে, নাকি ‘পাখণ্ডী’ মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হবে রাজনৈতিক তরজা? এখন নজর সেদিকেই।


