Aaj India Desk, কলকাতা: ভুয়ো চিকিৎসকের (Fake Doctor) ফাঁদ থেকে সাবধান। চিকিৎসা করাতে গিয়ে যেন প্রতারণার (Fraud) শিকার না হন, সেই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)। একটি পুরনো ঘটনার উদাহরণ তুলে পুলিশের বার্তা, চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকের পরিচয় এবং তাঁর বৈধ যোগ্যতা অবশ্যই যাচাই করে নিন।
বারাসতের বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে এনেছে পুলিশ। ২০২০ সালে মাথার সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নিখিলবাবু। পরিবারের লোকজন তাঁকে আরিয়ান হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগ, সেখানেই চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বজলুর রহমান অস্ত্রোপচারের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নেন।
অস্ত্রোপচারের দিনও ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই দিন আসার আগেই মৃত্যু হয় নিখিলবাবুর। এরপরই পরিবারের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ইকোপার্ক থানা। পরে গ্রেফতার করা হয় বজলুর রহমানকে।
তদন্তে পুলিশের দাবি, চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার একটি বড় প্রতারণার ছক চালাচ্ছিলেন তিনি। এমনকী চিকিৎসকের পরিচয়টি যে ভুয়ো, তদন্তে সেই তথ্যও সামনে আসে। সেই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি চিকিৎসা করতেন এবং স্পাইন ও ব্রেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারও করতেন বলে জানা যায়। চিনারপার্কে একটি হাসপাতালও চালাতেন বজলুর রহমান। এই মামলায় শেষ পর্যন্ত আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। রোগীমৃত্যুর মামলায় বারাসত আদালত তাঁকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনাকে সামনে রেখেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। চিকিৎসা করানোর আগে ডাক্তার সত্যিই চিকিৎসক কি না, তাঁর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও পরিচয় বৈধ কি না—তা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ পুলিশের। কারণ ভুল মানুষকে বিশ্বাস করে চিকিৎসা করাতে গিয়ে জীবন ও টাকা—দুই-ই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।


