40.9 C
Kolkata
Friday, June 5, 2026
spot_img

সই করা চিঠি কোথায়? বিদ্রোহীদের তোপ মহুয়া-কুণালের!

Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের ফলের পরেই তৃনমূল কংগ্রেসের ভাঙনের আভাস মিললেও শেষ অবধি গত বুধবার দলের প্রতিষ্ঠাতাকেই দল থেকে বিতাড়িত করে বিরোধী দলনেতা হয়ে বসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইতে এবার ঋতব্রত সহ বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেন দলের ‘পুরোনো মুখ’রা। একদিকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যাওয়া বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন, অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) একাধিক প্রশ্ন তুলে সেই বিদ্রোহী শিবিরকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন।

গোপন চিঠি নিয়ে প্রশ্ন

সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) জানতে চান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যে বিধায়করা স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিয়েছিলেন, সেই চিঠি কোথায়? তাঁর দাবি, স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও সই-সহ ওই চিঠি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এমনকি যাঁদের নাম ওই চিঠিতে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকেও নথিটি দেখতে পাচ্ছেন না বলেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শুধু প্রথম চিঠি নয়, স্পিকারের তরফে যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই নথিও প্রকাশ্যে না আসায় নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সব কিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথিগুলি সামনে আনতে সমস্যা কোথায়? তাঁর দাবি, কয়েকজন বিধায়কের নাম নাকি দুই পক্ষের চিঠিতেই রয়েছে। যদি তা সত্যি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আইনি বা বিধানসভা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

দলের সবচেয়ে সিনিয়র বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উপেক্ষা করে কেন অন্য কাউকে নেতা হিসেবে মানা হচ্ছে তাই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

“দলের মধ্যে হনুমান” বলে কটাক্ষ

অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র দলীয় নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, যদি কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা না রাখেন, তাহলে এতদিন দলে থেকে আপত্তি তোলেননি কেন? অসন্তুষ্ট নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। সাথে তিনি এও বলেন, “দলের মধ্যেই হনুমানের বাস। আমরা যখন দলের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম তখন আমরা ভাবিনি যে আমরা কোনোদিন সরকার গঠন করতে পারব।” তাঁর বক্তব্য, নিজের স্বার্থের জন্য শাসক দলকে তুষ্ট করে নিজের বিরোধী সত্ত্বার তকমা বজায় রেখে দুই দিকেরই লাভ নিতে চাইছেন এই বিদ্রোহী নেতারা।

মহুয়া মৈত্রের রাজনৈতিক বার্তা এবং কুণাল ঘোষের ধারাবাহিক প্রশ্নের পর এখন নজর বিদ্রোহী শিবিরের জবাবের দিকে। সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ্যে আসে কি না এবং বিতর্কের জট কতটা কাটে, সেটাই আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন