Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : নিট-ইউজিসি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। গত ১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একটিতেও দোষীদের শাস্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ক্রমশ ভেঙে পড়ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ
বুধবার কালো ব্যাজ পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তিনি বলেন, এক সময় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবার গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাঁর দাবি, সরকারের জবাবদিহির অভাবেই এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর দাবি, গত এক দশকে দেশে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলির একটিতেও এখনও পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। এর ফলে প্রায় ৭.৫ কোটি ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের।
তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পর প্রশ্নফাঁসের খবর সামনে এলে বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছু ছাত্র আত্মহত্যার পথও বেছে নেন। তাঁর মতে, এটি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।
ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা
রাহুল (Rahul Gandhi) প্রশ্ন তোলেন, “ছাত্ররা কী ভুল করেছে? কেন তাদের এভাবে আচরণ করা হচ্ছে? স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানানো কি ছাত্রদের অপরাধ?” তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের কাছে ধর্নায় বসলে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীকে আটক করে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদেই তিনি ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও সামনে আসে। প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে তাঁর নাকে রক্তের দাগও দেখা যায়। তবে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণকে বড় করে দেখতে চান না বলে জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত দেশের ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে আরও কঠোর আচরণ করা হলেও আপত্তি নেই, কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।


