নয়াদিল্লি: প্রতিবছরের মতো ১৪ আগস্টের সকাল থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) উদযাপনের তোরজোড়। রাত পোহালেই পাড়ায় পাড়ায় বেজে উঠবে দেশাত্মবোধক গান। মাইকে ভাষণ দেবেন নেতা-মন্ত্রীরা। আর অশীতিপর কোনও দাদু-ঠাকুমা ঘরের কোণায় স্মরণ করবেন দেশভাগের যন্ত্রণা। অন্যদিকে লালকেল্লায় মহাসমারোহে পালিত হবে ভারতবর্ষের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। তবে এবারের স্বাধীনতা দিবসে থাকবে কিছু বিশেষ চমক। একনজরে দেখে নিন সেগুলো কি কি।
আগামীকাল দিল্লির লালকেল্লায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। এই প্রথম লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সমবেতভাবে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় পৌঁছনোর পর তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ এবং প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংহ। এরপর দিল্লি এলাকার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-এর সঙ্গে পরিচয়পর্বের পর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হবে সালামি মঞ্চে। সেখানে যৌথ বাহিনী ও দিল্লি পুলিশের বাহিনী তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবে।
অনুষ্ঠানের মূল পর্ব
- গার্ড অফ অনার: যৌথ বাহিনী ও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা।
- জাতীয় পতাকা উত্তোলন: লালকেল্লার প্রাচীর থেকে তেরঙ্গা উত্তোলন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
- ২১ তোপের সেলামি: পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ মিমি লাইট ফিল্ড গান থেকে ২১ তোপের সেলামি।
- ‘বন্দে মাতরম্’: সেনাবাহিনীর ব্যান্ডে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সুর এবং এরপর উপস্থিত সকলের সমবেত গান।
- আকাশে পুষ্পবৃষ্টি: দুটি MI-17 হেলিকপ্টার লালকেল্লার উপর দিয়ে পুষ্পবৃষ্টি করবে। একটি বহন করবে জাতীয় পতাকা, অন্যটিতে থাকবে ‘বন্দে মাতরম্’ লেখা পতাকা।
- প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- ফের ‘বন্দে মাতরম্’: ভাষণের পর NCC ক্যাডেট ও My Bharat Volunteers মিলিতভাবে গানটি পরিবেশন করবেন।
- জাতীয় সঙ্গীত: অনুষ্ঠানের শেষে পরিবেশিত হবে ‘জন গণ মন’।
এবারের অনুষ্ঠানে (Independence Day) প্রায় ২,৫০০ NCC ক্যাডেট ও My Bharat Volunteers অংশ নেবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫,০০০ বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক, বিজ্ঞানী, তরুণ উদ্ভাবক, স্টার্টআপকর্মী, মহিলা ব্যবসায়ী, কারিগর, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা।
স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day) সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ভোর ৪টে থেকেই দিল্লি মেট্রো পরিষেবা চালু থাকবে। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য মেট্রো পরিষেবা বিনামূল্যে রাখার পাশাপাশি বয়স্ক ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বর্ষাকালের কথা মাথায় রেখে লালকেল্লা ও সংলগ্ন এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে রেন পঞ্চোর ব্যবস্থাও। সব মিলিয়ে, ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এবারের স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) অনুষ্ঠান হতে চলেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


