Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল (TMC) আমলে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত মন্ত্রী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) পরাজয়ের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে তাঁর নাম। একইসঙ্গে আলোচনায় এসেছেন তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনও।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ব্যবহার করে চড়া দামে দুর্গাপুজোর টিকিট ও পাস বিক্রি করা হত। এইভাবে প্রায় ৬০ কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগও রয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তেই ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের কসবার রাজডাঙার বাড়িতে পৌঁছয় ইডি। চলে তল্লাশি। ইন্দ্রনীল সেনের নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর নিজের সম্পত্তির পাশাপাশি স্ত্রী মধুছন্দা সেনের আয় ও সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্যও দেওয়া হয়েছিল।
মধুছন্দা সেনের আয় কত?
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে মধুছন্দা সেনের আয় ছিল ১১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬১০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সেই আয় বেড়ে হয় ১৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৮০ টাকা।
২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৭৬০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৭০ টাকা। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৪ লক্ষ ৯১ হাজার ২৩০ টাকা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সেই সময় মধুছন্দা সেনের হাতে নগদ ছিল ৮ হাজার ৪২০ টাকা।
তাঁর নামে মোট ১১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে একাধিক অঙ্কের টাকা জমা ছিল। একটি অ্যাকাউন্টে ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৭৬ টাকা, অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৮০ টাকা এবং আরও একটি অ্যাকাউন্টে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ছিল। আর একটি অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ১০ লক্ষ ১৫ হাজার ৯০৫ টাকা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় তাঁর বিনিয়োগও রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হুগলির সিঙ্গুরে তাঁর নামে জমি রয়েছে। ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৯ হাজার ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ১৩৯৪ স্কোয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর। ওই ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লক্ষ ৬১ হাজার ১৫০ টাকা। হলফনামার হিসাব অনুযায়ী, মধুছন্দা সেনের মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৭০ হাজার ৬৪২ টাকা।
ইন্দ্রনীল সেনের সম্পত্তির হিসাব
২০২৬-এর ভোটের আগে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সেই সময় ইন্দ্রনীল সেনের হাতে নগদ ছিল ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৪০ টাকা। তাঁর নামে একাধিক ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। দু’টি FD-তে ছিল যথাক্রমে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৬১৪ টাকা এবং ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৪০৪ টাকা। এছাড়া তাঁর নামে রয়েছে ৬টি সেভিংস অ্যাকাউন্ট।
শেয়ার বাজারেও বিনিয়োগ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের। হলফনামায় ২৩টি বিনিয়োগের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে কোনও কোনও বিনিয়োগের অঙ্ক ৪৪ লক্ষ টাকার বেশি, আবার কিছু বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
গাড়িও রয়েছে তাঁর। ২০০৮ সালে একটি গাড়ি কেনেন তিনি। সেই সময় গাড়িটির দাম ছিল ৪৭ হাজার ৭৯৮ টাকা। ২০১৬ সালে আরও একটি গাড়ি কেনেন, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৮৫ টাকা।
তাঁর কাছে ৩২ গ্রাম সোনাও রয়েছে। হলফনামায় ওই সোনার বাজারমূল্য ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ৭৬৫ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৫১ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি কত?
গড়িয়াহাট ও কসবায় দুটি কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ের অংশ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের নামে। এর মধ্যে একটি ১৯৯৯ সালে কেনা হয়েছিল ১ লক্ষ টাকায়। বর্তমানে তার বাজারমূল্য ৫৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৬২ টাকা।
অন্য কমার্শিয়াল সম্পত্তিটি কেনা হয় ২০০৯ সালে। বর্তমানে সেটির বাজারমূল্য ২ কোটি ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬৯৭ টাকা। এছাড়া গড়িয়াহাট ও কসবায় তাঁর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একটি কেনা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে ৬ লক্ষ টাকায়। অন্যটি ২০০৯ সালে কেনা হয় ২০ লক্ষ ৩১ হাজার ৫০০ টাকায়।
হলফনামায় দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেনের মোট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬২৪ টাকা।
অর্থাৎ, ২০২৬-এর ভোটের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের আয়, ব্যাঙ্কে থাকা অর্থ, বিনিয়োগ, জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পত্তির বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়েছিল। ইডির তল্লাশির পর সেই হলফনামার তথ্যই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


