Aaj India Desk, মালদহ: আগেও একাধিকবার এই অভিযোগ সামনে এসেছিল। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা এবার আরও খোলাখুলি মুখ খুলছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের (TMC) কিছু নেতা সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দিতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী (Illegal Immigrant) দের ভারতে ঢুকতে সাহায্য করতেন। এমনকি উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সদস্যদেরও সীমান্ত পার করিয়ে আনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
গ্রামবাসীদের কথায়, আগে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ প্রায় নিয়মিত ঘটনা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালীর মদতেই অনুপ্রবেশকারীরা সহজেই এপারে ঢুকে পড়ত। শুধু তাই নয়, সীমান্তের গ্রামগুলিতে ঢুকে হামলা, ফসল লুট এবং নানা ধরনের অশান্তির ঘটনাও ঘটত বলে দাবি তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব অনেকটাই নিজেরাই তুলে নিয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। রাতভর দল বেঁধে পাহারা দিতেন পুরুষ-মহিলা সবাই। কারও হাতে থাকত লাঠি, কারও হাতে দা বা হাঁসুয়া। কারণ, কখন কোথা থেকে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়বে, সেই ভয় সবসময়ই ছিল। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সীমান্তের যেসব অংশে কাঁটাতার ছিল না, সেসব জায়গা দিয়েই সবচেয়ে বেশি যাতায়াত চলত। কখনও জঙ্গলের ভেতরের সরু রাস্তা, আবার কখনও নদীপথ ব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে ঢুকত। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদী সংগঠন ও জামাতে ইসলামের সদস্যরাও এই পথ ব্যবহার করত। তাঁদের দাবি, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও তখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তবে সরকার বদলের পর পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে বলে জানাচ্ছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। এখন আগের মতো ভয় নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিতে হয় না। সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি অনেক বেশি কড়া হয়েছে। যেসব পথ আগে অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন নিয়মিত টহল চলছে। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং অ্যালার্মও।
শুধু বিএসএফ নয়, রাজ্য পুলিশও সীমান্ত নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। রাতের বেলাতেও সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল চলছে। পাশাপাশি কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। বহু জায়গায় খুঁটি বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। পুরনো কাঁটাতার বদলে আধুনিক ‘স্মার্ট বর্ডার’ তৈরির কাজও এগোচ্ছে। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


