28 C
Kolkata
Wednesday, August 12, 2026
spot_img

ফের আন্দোলনের পথে CJP? আসছে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’, ১৫ অগস্টেই বড় ঘোষণা

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি'(CJP)। দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের আগের ছাত্র আন্দোলনের (Students Protest) পর এবার আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানালেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর কথায়, খুব শিগগিরই শুরু হতে চলেছে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ (Jantar Mantar Season 2)।

গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বড়সড় আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলন ঘিরে জাতীয় স্তরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। আন্দোলন শেষ হওয়ার পর CJP জানিয়েছিল, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে তারা ভবিষ্যতেও চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে।

সেই প্রসঙ্গেই অভিজিৎ দিপকে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁকে ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই শুরু হতে চলেছে যন্তর মন্তর সিজন ২।”তবে, দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, এই ‘সিজন ২’ শুধু দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে বিক্ষোভ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনার জন্য CJP ‘লিসেনিং ট্যুর’ শুরু করবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় করা হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবস থেকেই নতুন প্রচার শুরু করার কথা জানিয়েছে দলটি।

এরই মধ্যে দিল্লিতে দলের একটি বৈঠক আয়োজন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, CJP-র ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বৈঠক করার জন্য হল ভাড়া নিতে গিয়ে তাঁরা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। বেশ কয়েকজন হল মালিক নাকি ‘উপরমহলের চাপ’-এর কথা বলে জায়গা দিতে রাজি হননি। দিপকের অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত একটি হল বুক করা গেলেও বৈঠকের দিন সকালে মালিকদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, CJP-র বৈঠক করতে দিলে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল।

এই ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দিপকে। তাঁর দাবি, এই ধরনের চাপ দিয়ে CJP-কে থামানো যাবে না। তবে তাঁর করা এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পথচলা শুরু করেছিল CJP। কিন্তু যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পর এবার সংগঠনটি নিজেদের কর্মকাণ্ড আরও বড় জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে। তারই অংশ হিসেবে আগামী ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে নতুন কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই প্রচারের মূল লক্ষ্য গ্রামের সরকারি স্কুলগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করা। স্কুলে পানীয় জল, শৌচাগার, ভালো ক্লাসরুম এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা রয়েছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার তাঁর নিজের গ্রাম থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হবে। স্থানীয় সরপঞ্চ, অভিভাবক এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি স্কুলের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে রাস্তার সমস্যার প্রতিবাদে স্কুলপড়ুয়াদের আন্দোলনকেও সমর্থন জানিয়েছিল CJP। গ্রামের রাস্তা খারাপ হওয়ায় স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়ছিল পড়ুয়ারা। এরপর একদল স্কুলপড়ুয়া মিছিল করে কালেক্টরেট দফতরে গিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং গেটের সামনে অবস্থান করে। এই পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রশংসা করে অভিজিৎ দিপকে বলেন, নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতার এত বছর পরেও যদি গ্রামের পড়ুয়াদের স্কুলে যাওয়ার জন্য ভালো রাস্তার দাবিতে আন্দোলন করতে হয়, তাহলে বিষয়টি ভাবার মতো।

এখন CJP একদিকে ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ নামে দেশজুড়ে মানুষের সমস্যার কথা শোনার কর্মসূচি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে শুরু করছে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান। অর্থাৎ শিক্ষাব্যবস্থাকে সামনে রেখে জনসংযোগ ও আন্দোলন—দুই দিকেই নিজেদের কার্যকলাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন