Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: শনিবার দুপুরে যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত (Jantar Mantar Protest) ছাত্রদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের ঠিক আগে দিল্লির ১০ নম্বর জনপথের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) দাবি করেন, তাঁর কাছে এমন খবর রয়েছে যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) মন্ত্রিসভা থেকে সরানো না-হলেও অন্য কোনও মন্ত্রকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু দফতর বদল করলে হবে না, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকেই বরখাস্ত করতে হবে।
রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, তিনি কি কোনও নির্দিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্য পেয়েছেন, নাকি সম্ভাব্য রাজনৈতিক কৌশলের কথা আগাম তুলে ধরেছেন?
প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকেই সরকারের একাধিক সূত্র দাবি করছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই নেই এবং সরকার তাঁর পাশেই রয়েছে। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকায় সরকার শেষ পর্যন্ত মুখ রক্ষার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য কোনও দফতরে সরিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে।
এই সম্ভাবনার কথাই কার্যত আগেভাগে তুলে ধরে আন্দোলনরত ছাত্রদের সতর্ক করতে চেয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বার্তা, শুধু মন্ত্রক পরিবর্তনকে যেন আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে না ধরা হয় এবং শিক্ষামন্ত্রীর পূর্ণ অপসারণের দাবিতেই ছাত্ররা অনড় থাকেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে রাহুল বলেন, “ক্যাবিনেটের অন্দরে এই রকম আলোচনা হয়তো চলছে, কিন্তু ভারতের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর কাছে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এ দফতর থেকে ও দফতরে সরিয়ে দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করলে চলবে না। দুর্নীতি, অযোগ্যতা এবং পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন উনি। তাঁকে সরাসরি বরখাস্ত করতে হবে।”
ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল গান্ধী আরও বলেন, বিরোধী শিবিরের তিনটি দাবি থেকে একচুলও সরে আসার প্রশ্ন নেই। প্রথমত, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে হবে। দ্বিতীয়ত, যন্তর মন্তর এবং সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ী পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশের ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, “নরেন্দ্র মোদী এখন ভারতের অতীত। আর অতীত কখনও ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না। দেশের তরুণ ও ছাত্র সমাজই ভারতের আসল ভবিষ্যৎ।” এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনগুলিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে গোটা দেশের।


