নয়াদিল্লি: ৩৬ দিনের আন্দোলন, পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান কোনকিছুই দমাতে পারেনি তাঁদের! এমনকি বন্ধ করে দেওয়া হয় মেট্রো স্টেশন-ইন্টারনেটও (CJP Protest)! তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে আন্দোলন নিয়ে অপপ্রচার, সমালোচনা। রাতের পর রাত রাস্তায় পড়ে থাকা পড়ুয়ারা স্বপ্ন দেখেছিল এই দিনটার! ছাব্বিশ দিন অনশনে শরীর ভেঙে পড়া সোনম ওয়াংচুকও স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দিনটার! আজ ৩৬ দিনে অবশেষে জয় আরশোলা তথাব ছাত্রদের ‘ন্যায্য দাবীর’ কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হল শাসক!
সিজেপির ৩ টি দাবীই মেনে নিল কেন্দ্র সরকার। শনিবার সিজেপির সঙ্গে বৈঠকের আগেই ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)! গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে ভারাক্রান্ত, বলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক্সে ‘তরুণ বন্ধুদের’ উদ্দেশ্যে দু-পাতার খোলা চিঠি দেন তিনি। যেখানে ধর্মেন্দ্র লেখেন, “এই আন্দোলনকে যেন রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি হাতিয়ার করার সুযোগ না পায় এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায়”, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৩৬ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা সিজেপি আন্দোলনের আঁচ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। কলকাতা সহ পাটনা, মুম্বই, কোচি সহ একাধিক জায়গায় পথে নামে হাজার হাজার পড়ুয়া। নিট প্রশ্নফাঁসের ছেড়ে ছাত্রমৃত্যু, শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি-বেহাল দশা, একাধিক প্রশ্নফাঁসের ক্ষোভ সমগ্র দেশের পড়ুয়াকে এক করে দিয়েছিল (CJP Protest)। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক রং না মেখে সরকারকে শুধু প্রশ্ন করেছিল।
শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন সিজেপি প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর কেন্দ্র জানায়, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে এবং শনিবার ফের বৈঠকে সরকারের অবস্থান জানানো হবে। জে পি নাড্ডা বলেন, “তাঁদের তিনটি মূল দাবি এবং পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের ভিতরে আলোচনা করে শনিবার আবার বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
X Link: https://x.com/dpradhanbjp/status/2080938216505667663/photo/2
তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে আন্দোলন আরও বড় মাত্রা ধারণ করবে বলে সাফ জানিয়ে দেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। এর জন্য শনিবার বিকেল পর্যন্ত কেন্দ্রকে সময় দিয়েছিলেন তাঁরা। এরপর শনিবার সকালেও আশুতোষ রাঙ্কা লেখেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগ এমন একটি দাবি, যেখান থেকে এক চুলও পিছিয়ে আসার প্রশ্ন নেই। সরকার যদি এই দাবি মানতে না চায়, তাহলে নিষ্ফল আলোচনার কোনও অর্থ নেই।” তবে বৈঠকের আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সমগ্র দেশের পড়ুয়াদের কাছে এক বিরাট জয় এনে দিল। যন্তর মন্তরে বর্তমানে খুশির জোয়ার। গত ৩৬ দিনের কষ্ট আজ সার্থক, বলছেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা।


