Aaj India Desk, কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র নেতৃত্বে বিজেপি (BJP) সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী (Illegal Immigrant)-দের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা বেআইনিভাবে রাজ্যে ঢুকেছেন বলে প্রমাণ মিলবে, তাঁদের সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এবার সেই প্রক্রিয়াই শুরু হতে চলেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার (Holding Centre), যেখানে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা, আটক করা এবং পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। অভিযোগ, এতদিন রাজ্যের আগের সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেমন হবে বাংলার হোল্ডিং সেন্টার গুলো?
সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলার কৃষক মান্ডি, পুরনো সরকারি ভবন বা কিছু স্কুলকে অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আলাদা করে বড় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে না। তবে যাঁদের সেখানে রাখা হবে, তাঁদের বাইরে অবাধে ঘোরাফেরা করার অনুমতি থাকবে না।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার সময় যদি কোনও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাকে অবৈধভাবে ঢুকতে গিয়ে ধরা হয়, তাহলে তাঁদের আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি-সহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সেই তথ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের Foreigners Identification Portal (FIP)-এ আপলোড করতে হবে। এরপর নিয়ম মেনে তাঁদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রতিটি জেলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স বা STF গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই বাহিনী স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।
যদি কোনও ব্যক্তি দাবি করেন যে তিনি ভারতীয় নাগরিক, তাহলে তাঁর তথ্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা জেলার কাছে পাঠিয়ে যাচাই করা হবে। প্রশাসনকে ৩০ দিনের মধ্যে সেই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।
যাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের নাম ব্ল্যাকলিস্টে তোলা হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁরা আর ভারতে ঢুকতে না পারেন। পাশাপাশি তাঁদের সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে। সেই তথ্য UIDAI, নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট দফতর-সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছেও পাঠানো হবে, যাতে প্রয়োজন হলে পরিচয়পত্র বা সরকারি সুবিধা বাতিল করা যায়।
প্রত্যর্পণের জন্য যাতায়াত ও পরিবহণের প্রাথমিক খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। পরে সেই খরচ কেন্দ্রের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া যাবে। এছাড়া হোল্ডিং সেন্টার তৈরি ও পরিচালনার পুরো দায়িত্ব এবং খরচও রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকেই সামলাতে হবে।


