Aaj India Desk, কলকাতা: বারুইপুরে (Baruipur Case) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি এনকাউন্টারে (Police Encounter) মৃত্যুর পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে। এবার এই ঘটনায় মুখ খুললেন ২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদী মুখেরা এবং কালীগঞ্জে নিহত তামান্না খাতুনের মা। তাঁদের বক্তব্য, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধ রুখতে দোষীদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।
কামদুনি কাণ্ডে নিহত কলেজ ছাত্রীর ভাই বলেন, বারুইপুরে যেভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মামলার ক্ষেত্রেও তেমন পদক্ষেপ দেখতে চান। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের মামলার কয়েকজন অভিযুক্ত এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং অতীতে তাঁকেও একাধিকবার হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। আগের সরকারের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ধর্ষণের মতো অপরাধে কঠোরতম শাস্তি হলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা ভয় পাবে।
কামদুনির প্রতিবাদী মুখ মৌসুমী কয়াল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের বহু ঘটনায় বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে কামদুনি ও আরজি কর-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দ্রুত বিচার সম্পূর্ণ করার আবেদন জানান তিনি। কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মৌসুমী। তিনি বলেন, এত বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই করেও অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে আর কোনও মেয়ে বা শিশুকে যেন এমন নৃশংসতার শিকার হতে না হয়, সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া।
কামদুনির আর এক প্রতিবাদী টুম্পা কয়ালও বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পক্ষে মত দেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বহু ভয়ঙ্কর অপরাধের পরও যথাযথ শাস্তি হয়নি বলেই অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, আগের সরকার যদি সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা বারবার ঘটত না।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জে নিহত ১০ বছরের তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিনও পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যারা নারী ও শিশুদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে অপরাধ অনেকটাই কমবে। তিনি মনে করেন, এমন পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।
নিজের মেয়ের মৃত্যুর মামলার প্রসঙ্গ টেনে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর আশা, আদালতে সব প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে। পাশাপাশি বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।


