কলকাতা: বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের (Baruipur rape and murder) ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে সূর্যপুরে পুলিশের এনকাউন্টারে মারা যায় ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। এই এনকাউন্টার নিয়েও শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু এসবের মাঝে কি বললেন নির্যাতিতার বাবা?
তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) আমার দাদা। আমার পুরো ভরসা আছে। দাদার কাজে আমি খুশি। পুলিশও খুব ভালো কাজ করেছে।” অন্যদিকে, প্রভাসের এনকাউন্টার নিয়ে কান্নার বদলে “ঠিক হয়েছে” বলেছেন তার মা ও স্ত্রী।
প্রসঙ্গত, রবিবার পুকুর থেকে নির্যাতিতার বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধারের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর। নৃশংস এই ঘটনার (Baruipur rape and murder) পরই প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠন করা হয় ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। একইসঙ্গে ফোনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন তিনি (Suvendu Adhikari)। তদন্ত শুরু হতেই পুলিশের হাতে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের বয়ান এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় তিন অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল এবং আনন্দ সর্দারকে।
পরে তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় চতুর্থ অভিযুক্ত কবির মোল্লাকে। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তদন্তে কোনওরকম শৈথিল্য রাখা হয়নি।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তে আসে নাটকীয় মোড়। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় প্রভাস এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে এবং পালানোর উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান পুলিশ অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল (Baruipur Encounter)। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


