কলকাতা: নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় (Baruipur rape and murder) রবিবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর। অভিযুক্ত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামক এক যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়। রাস্তা-রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে জনতা। রাস্তায় আগুন জ্বালানো হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এমনকি সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পেও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় মঙ্গলবারই কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গণপিটুনিতে নিহত যুবক ‘নির্দোষ’ বলার পাশাপাশি, বিক্ষোভের নামে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে প্রায় ২০০ জন পুলিশের নজরে রয়েছে বলেও জানান তিনি। এরপরই শুরু হয়েছে পুলিশের বড়সড় অ্যাকশন। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং তদন্তের পাশাপাশি এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন।
নৃশংস (Baruipur rape and murder) ঘটনার পর বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার জেরে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, বিক্ষোভের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশকে বাধা দেওয়া বা হামলার ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর, তদন্তের (Baruipur rape and murder) গতি বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব আদালতে চার্জশিট পেশ করার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এই মামলায় নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সমস্ত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের আশা, তদন্তে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নাবালিকার পরিবারের জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে এই ঘটনায় সমাজে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতেও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।


