কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। এরই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনায় ‘অভিযুক্ত’ প্রভাস মন্ডলের পুলিশ এনকাউন্টারে (Baruipur Encounter) মৃত্যু উসকে দিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। আগেই এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তৃনমূল নেতা নীলাঞ্জন দাসের বক্তব্য, যদি প্রভাস সত্যিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর মৃত্যু তদন্তের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অন্য কোনও অভিযুক্তের ভূমিকা আদৌ সামনে আসবে কি না। এবার এই ঘটনাকে (Baruipur Encounter) ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ বলে তুলনা করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সমাজমাধ্যমে রাজ্য পুলিশ ও বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন মহুয়া। তিনি (Mahua Moitra) লেখেন, “বারুইপুরের ধর্ষণ-খুন মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কী হচ্ছে? বাঙালিরা, নতুন বাংলা— উত্তরপ্রদেশ ২.০-কে স্বাগত জানান। বিজেপি বাংলা কোনও সরকার নয়, এটা জঙ্গলরাজ।”
X link: https://x.com/MahuaMoitra/status/2074700427015364891
পাশাপাশি বারুইপুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাম শিবিরও। সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) এক্সে লেখেন, “বারুইপুরের ঘটনা নৃশংস। পুলিশের ব্যর্থতায় জনরোষ স্বাভাবিক। বাস্তবকে অস্বীকার করে শুধু রাজনীতি বা জেহাদি রং দিয়ে দেখতে চাইলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থীই হবে।” পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সুজনের বক্তব্য, “কে নির্দোষ, কাকে গ্রেফতার করা হবে, পানিশমেন্ট কি হবে- সবই কি মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করে দেবেন!!? এটা যে স্বৈর শাসনের পদধ্বনি।”
X link: https://x.com/Sujan_Speak/status/2074707780465029408
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল সূর্যপুরে প্রভাসকে (Prabhas Mondal) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে তদন্তকারী দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রভাস। এরপর পালানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা (Baruipur Encounter), বলে পুলিশ সূত্রে দাবী।


