কলকাতা: মঙ্গলবার কলকাতার রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন করতে নেমেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। হাওড়া থেকে শুরু হওয়া মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছতেই উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিলে অংশ নেয় ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-ও। আন্দোলনের নামে ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপ’ চলছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest)-র বিরুদ্ধে সরব হন।
মিছিল চলাকালীন এক অংশগ্রহণকারীকে বলতে শোনা যায়, “এই ককরোচদের চামড়া তুলে দেব আমরা।” ABVP-র দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদ করার নামে কিছু সংগঠন পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়াচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করছে। তাদের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে এমন কার্যকলাপ চলছে যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
সেই কারণেই সাধারণ মানুষের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। মিছিলে উপস্থিত বক্তারা প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কঠোর তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানান। পাশাপাশি, প্রতিবাদের (CJP Protest) নামে হিংসা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সরব হন তাঁরা।
উল্লেখ্য, এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ককরোচ জনতা পার্টি এবং আন্দোলনকে (CJP Protest) ঘিরে কড়া মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাঁরা ওই ছবি পোস্ট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ব্যানারের তলায় থেকে যাঁরা “দেশবিরোধী কার্যকলাপ”-এ যুক্ত রয়েছেন এবং যাঁরা তাঁদের মদত দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, “সব ভিডিও আছে। আমাদের সরকার ব্যবস্থা নেবেই।”
এদিন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP Protest) বিরুদ্ধেও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, সংগঠনটি এবং তাদের সমর্থকেরা দেশবিরোধী আন্দোলন করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিজেপি বিধায়করা বিধানসভায় কালো ব্যাজ পরে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তাই করা নয়। দেশের অধিকাংশ মানুষ এদের বিরুদ্ধে, তাঁদেরও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।”
বিরোধী দলগুলিকেও নিশানা করেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ছাত্রদের আন্দোলনকে (CJP Protest) রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী ছাত্রস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলার পর আন্দোলনের মূল ইস্যুর অনেকটাই সমাধান হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা ছাত্রদের ব্যবহার করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তাঁরা এখন জনসমর্থন হারিয়েছেন।


