Aaj India Desk, আলিপুরদুয়ার : উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলায় শিক্ষাক্ষেত্রে এক অভিনব প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নজর কাড়ছে। বহুদিনের চেনা স্কুলের ‘ঢং ঢং’ ঘণ্টার শব্দ এবার ইতিহাসের পথে তার জায়গা নিয়েছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(AI) বা এআই-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা ব্যবস্থা। জেলার দুটি স্কুলে এই নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জটেশ্বর হাই স্কুল (Jateswar High School ) এবং জটেশ্বর গার্লস হাই স্কুল (Jateswar Girls High School) এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হয়েছে ‘এআই মাইক’ বা অটোমেটিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম। এখন আর নির্দিষ্ট সময়ে ঘণ্টা বাজানোর জন্য কাউকে আলাদা করে দায়িত্ব নিতে হয় না। তার পরিবর্তে একটি সফটওয়্যার নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী নিজে থেকেই ঘোষণা করে দেয় কখন প্রার্থনা শুরু হবে, কখন একটি ক্লাস শেষ হবে, কিংবা কখন স্কুল ছুটি হবে।
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল এর মানবী কণ্ঠস্বর। কৃত্রিম হলেও এই কণ্ঠ এতটাই স্বাভাবিক ও পরিষ্কার যে, শুনলে সহজে বোঝা যায় না এটি যন্ত্রের তৈরি। স্কুল চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় মাইক বসানো হয়েছে, ফলে প্রতিটি ঘোষণা স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায় ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মীদের কাছে। অনেকেই বলছেন, এটি যেন ট্রেন বা মেট্রো স্টেশনের আধুনিক ঘোষণার মতোই অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে স্কুলের ভেতরে।
কেন এমন উদ্যোগ?
স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে কর্মীসংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়। ঘণ্টা বাজানো বা ঘোষণা করার মতো কাজের জন্য আলাদা কর্মী না থাকায় নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। সেই সমস্যারই প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান হিসেবে এই এআই সিস্টেম চালু করা হয়েছে।এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্কুলের নিজস্ব তহবিলের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পরিচালন সমিতির সদস্যদের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর সমাধান বের করা যায়, তার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই উদ্যোগ।শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধাই নয়, এই নতুন ব্যবস্থায় সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলাও বেড়েছে বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। নির্দিষ্ট সময় মেনে প্রতিটি কার্যক্রম হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও এক ধরনের নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়ারাও। অনেকের মতে, স্কুলে এমন আধুনিক ব্যবস্থার ব্যবহার তাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে এবং পড়াশোনার পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অভিভাবকরাও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন কিছু নয়, তবে গ্রামীণ বা মফস্বল এলাকার স্কুলে এভাবে এআই-র প্রয়োগ সত্যিই বিরল। তাই আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-এর এই দুই স্কুল এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই পথ অনুসরণ করবে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।


