Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আগামী ২৯ তারিখ বাংলার বাকি ৭ জেলায় দ্বিতীয় দফার ভোট। কিন্তু তার আগেই বাংলার একাধিক জায়গায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী হিংসা। এর মধ্যে সোমবার সকলেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার হেভিওয়েট কেন্দ্র ভাঙড়ে (Bhangar) উদ্ধার করা হলো ৭৯টি ক্রুড বোমা-সহ বিস্ফোরক সামগ্রী। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
উত্তর কাশীপুর থানার মাঝেরহাট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বোম নিষ্ক্রিয়করণ দলের সহায়তায় পুলিশ ৭৯ টি বোমা সহ প্রায় ৩.৩৭ কেজি গান পাউডার, ১.৬১ কেজি সালফার, জুটের দড়ি এবং রোল ক্যাপের প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করে।
তদন্তভার হস্তান্তর কেন্দ্রের
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে কলকাতা পুলিশের বদলে NIA এর উপর এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, তাঁরা খতিয়ে দেখছেন, এই বিস্ফোরক কোথা থেকে এল এবং এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে কি না।
গ্রেপ্তার অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা
তবে, ঘটনার অভিযুক্ত পলাতক তৃণমূল নেতা ওয়াহিদুল ইসলামকে ভাঙড়ের (Bhangar) চক মরিচা-তেঁতুলতলা ঘাট এলাকায় দেখে তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয়রা। এরপর বিক্ষোভ ও মারধরেরও অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে জানা গেছে। NIA সূত্র অনুযায়ী, আগেই একটি বোমা বিস্ফোরণের মামলায় তাঁকে খুঁজছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পুরোনো সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা
উল্লেখ্য, ভাঙড় (Bhangar) বিধানসভা দক্ষিণ ২৪ পরগনার সবথেকে সংবেদনশীল কেন্দ্র। ২০২১ সালের নির্বাচনে এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) নওশাদ সিদ্দিকি। সেই সময়েই ভাঙড়ে একাধিক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে ২০২৬ এর বিধানসভার নির্বাচনেও তৃণমূলের শওকত মোল্লা ও ISF প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে, এত বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধার হওয়ায় পুরোনো সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
মরিয়া শাসক দল নাকি কেন্দ্রের নতুন চাল ?
রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে মামলা হস্তান্তর করে কেন্দ্র যে দ্রুত NIA এর হাতে তদন্তভার তুলে দিয়েছে, তাতে রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের টানাপোড়েন ফের নতুন করে সামনে এসেছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে কেন্দ্রের অসন্তোষ ও সন্দেহ স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আবহে এর আগেও সংবেদনশীল মামলায় CBI ও NIA এর হস্তক্ষেপ দেখা গেছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিযোগ করেছেন। ঘটনার জেরে কেন্দ্র শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আবার অন্যদিকে সত্যিই দ্বিতীয় দফার ভোটে ISF কে হারিয়ে জয়ী হওয়ার জন্য মরিয়া শাসক দল হিংসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কিনা তা নিয়েও চলছে জল্পনা। এখন ২৯ শে এপ্রিলে ভোট নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় কিনা সেটাই দেখার।


