Aaj India Desk, মুম্বাই: বয়সটা মাত্র ১৫। কিন্তু মাঠে নামলেই ব্যাট হাতে যে আগ্রাসন দেখাচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) , তাতে বয়সের হিসাবটা যেন একেবারেই বেমানান। দলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ফের ঝড় তুললেন তরুণ ব্যাটার। ৮১ বলে তাঁর সংগ্রহ ৯২ রান। ইনিংসে ছিল সাতটি চার এবং সাতটি ছক্কা। শতরানের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ৯২ রানে থামতে হয় তাঁকে।
তবে শতরান না এলেও বৈভবের জন্য ম্যাচটি হয়ে রইল স্মরণীয়। কারণ অর্ধশতরান করার সময়ই তিনি ঢুকে পড়েছেন দলীপ ট্রফির রেকর্ডবুকে। মাত্র ৪২ বলেই পঞ্চাশে পৌঁছে যান এই বাঁহাতি ব্যাটার। ১৫ বছর ১৫৭ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে দলীপ ট্রফির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে অর্ধশতরান করার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। এর আগে ১৯৬৯ সালে ১৬ বছর ২৩ দিন বয়সে অর্ধশতরান করে এই রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন লক্ষ্মণ সিং। অর্থাৎ দীর্ঘ ৫৭ বছর পর বদলে গেল রেকর্ডের মালিক।
ম্যাচের শুরুটাও বৈভবের জন্য ছিল বেশ অন্যরকম। ইস্ট জোনের নিয়মিত অধিনায়ক ঈশান কিষাণ চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে হয় বৈভবকে। টুর্নামেন্টের আগে তাঁকে দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। ফলে আচমকা পাওয়া সুযোগটাও কাজে লাগাতে দেখা যায় তাঁকে।
অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম বড় সিদ্ধান্তও নজর কেড়েছে। আরিয়ান জুয়ালের বিরুদ্ধে ক্যাচের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে রিভিউ নেননি বৈভব। বোলার ও উইকেটকিপারের সঙ্গে আলোচনা করে অপেক্ষা করেন। ডিআরএস নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র তিন সেকেন্ড আগে রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। প্রযুক্তির সাহায্যে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেছিল। ফলে জুয়ালকে আউট করা হয়। বৈভবের সেই শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের ভিডিওও ক্রিকেটমহলে আলোচনায় এসেছে।
এরপর ব্যাট হাতে যেন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখায় তাঁকে। শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৪২ বলে পঞ্চাশের পর বাউন্ডারির সংখ্যা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত সাতটি চার ও সাতটি ছক্কায় ৯২ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর সঙ্গে অভিমন্যু ঈশ্বরনের ১৬১ রানের জুটিও ইস্ট জোনকে ম্যাচে শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
বৈভবের এই ইনিংসের সঙ্গে ফের একবার সচিন তেন্ডুলকরের নামও উঠে এসেছে। ১৯৮৮ সালে ১৫ বছর ২৩০ দিন বয়সে রনজি ট্রফিতে প্রথম শতরান করেছিলেন সচিন। বৈভব অবশ্য এদিন সেই নজির ছুঁতে পারেননি। কিন্তু দলীপ ট্রফির সর্বকনিষ্ঠ অর্ধশতরানকারী হিসেবে নিজের নাম লেখানোর পর ফের প্রমাণ করলেন, ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশার কারণটা নিছকই হইচই নয়।


