Aaj lndia Desk, কলকাতা: কলকাতার ফুটবল মানেই ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান দ্বৈরথ। গ্যালারির গণ্ডি পেরিয়ে এই লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশেই। এ বার সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার আরও একটি অধ্যায় লেখা হবে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে। রবিবারের মহারণে ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মুখোমুখি হবে লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুন।
ফাইনালের আগে পরিসংখ্যান বলছে, ডুরান্ডের মঞ্চে দুই প্রধানের লড়াই একেবারেই সেয়ানে-সেয়ানে। এখনও পর্যন্ত ডুরান্ড ফাইনালে ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। এই ১২ ফাইনালের মধ্যে ১০টির নিষ্পত্তি হয়েছে জয়-পরাজয়ে। তার মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের জয় ৫টি, মোহনবাগানেরও জয় ৫টি।
তবে এই হিসাবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও দুই ঐতিহাসিক ফাইনাল। ১৯৬০ সালে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল না হওয়ায় পরদিন রিপ্লে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ম্যাচও ড্র হওয়ায় দুই দলকে যৌথ বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ১৯৮২ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। মূল ম্যাচ ও রিপ্লে দুটিই অমীমাংসিত থাকায় সে বারও ট্রফি ভাগ করে নেয় দুই প্রধান।
ডুরান্ড ফাইনালে প্রথমবার মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে হারায় ১৯৬৪ সালে। ২-০ ব্যবধানে জিতে সবুজ-মেরুন শিবির। অন্যদিকে, লাল-হলুদের প্রথম ফাইনাল জয় আসে ১৯৭০ সালে, সেবার তারাও ২-০ গোলে জিতেছিল।
এর পর ১৯৭২ ও ১৯৭৮ সালে ইস্টবেঙ্গল এবং ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে মোহনবাগান ফাইনালে জয় পায়। ১৯৮৯ সালের ফাইনালে টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জেতে ইস্টবেঙ্গল। ১৯৯৪ সালে মোহনবাগান ১-০ এবং ২০০৪ সালে ইস্টবেঙ্গল ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়।
শেষবার ডুরান্ড ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৩ সালে। দিমিত্রি পেত্রাতোসের একমাত্র গোলে সেবার ট্রফি জিতেছিল মোহনবাগান।
চলতি ডুরান্ডেও এর আগে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল মোহনবাগান। ফলে ফাইনালের আগে সাম্প্রতিক লড়াইয়েও রয়েছে আলাদা উত্তেজনা। সব মিলিয়ে ডুরান্ড ফাইনালের ইতিহাস বলছে এ বারও পরিসংখ্যান নয়, মাঠের ৯০ মিনিটই ঠিক করবে কলকাতার দুই প্রধানের মধ্যে কে উঠবে চ্যাম্পিয়নের আসনে।


