Aaj lndia Desk, কলকাতা: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে যে রকম উত্তেজনাপূর্ণ ডার্বির প্রত্যাশা ছিল, তার ধারে কাছেও গেল না ম্যাচ। বরং যুবভারতীর মঞ্চে প্রথম ৪৫ মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলের দাপটে কার্যত ভেঙে পড়ল মোহনবাগান। বিপিন সিংয়ের গোল দিয়ে শুরু, এরপর এডমন্ড লাল রিনডিকার হ্যাটট্রিক বিরতির আগেই স্কোরলাইন ৪-১। এত বড় ধাক্কার পর দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই হতাশায় গ্যালারি ছাড়তে শুরু করেন একাধিক মোহনবাগান সমর্থক। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আর বদলায়নি, ডুরান্ড কাপের ট্রফি উঠল লাল-হলুদের হাতে।
বিপিনের গোলে শুরু সবুজ-মেরুনের বিপর্যয়
ম্যাচের শুরুতে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। কিন্তু দশ মিনিটেই সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা আসে। শুভাশিস বসুকে এড়িয়ে বিপিন সিংয়ের নিচু শট সরাসরি জালে পৌঁছে যায়। গোলরক্ষকের বিশাল কসরতে ও কিছুই হলো না।
প্রথম গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের বিপদে পড়ে সবুজ-মেরুন। ১২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এডমন্ড লাল রিনডিকার জোরালো শট মোহনবাগানের জালে জড়িয়ে যায়। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ২-০ পিছিয়ে যায় তারা।
এডমন্ডের ব্যক্তিগত দক্ষতায় ৩-০
মোহনবাগানের রক্ষণ তখন চাপ সামলাতেই ব্যস্ত। সেই সুযোগেই ২২ মিনিটে ফের গোল করেন এডমন্ড। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষক বিশাল চেষ্টার পরেও পরাস্ত করেন তিনি। স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-০।
৩৩ মিনিটে মনবীর সিং একটি গোল ফিরিয়ে আনায় সবুজ-মেরুন শিবিরে সাময়িক স্বস্তি ফেরে। ৩-১ থেকে ম্যাচে ফেরার একটা সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
বিরতির আগেই হ্যাটট্রিক এডমন্ডের
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ফের আঘাত আনে ইস্টবেঙ্গল। ৪৪ মিনিটে জয় গুপ্তর পাস থেকে বল পেয়ে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন এডমন্ড। সম্পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক। ৪-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় ইস্টবেঙ্গল।
এই গোলের পরেই মোহনবাগান সমর্থকদের মধ্যে হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই গ্যালারির একাংশ থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন তাঁরা। অন্যদিকে লাল-হলুদ গ্যালারিতে তখন জয়ের উৎসব।
২৯ বছর পর ফিরল পুরনো স্মৃতি
ইস্টবেঙ্গলের ৪-১ ব্যবধানের এই জয় ডার্বির পুরনো এক স্মৃতিকেও সামনে এনে দিল। ১৯৯৭ সালের ফেড কাপ সেমিফাইনালে বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিকে একই ব্যবধানে মোহনবাগানকে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফের বড় মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে একই স্কোরলাইন দেখা গেল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল না হলেও জয় নিশ্চিত
বিরতির পরেও আক্রমণের ধার কমায়নি ইস্টবেঙ্গল। এডমন্ড এবং জেসিনের সামনে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু একাধিক সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। মোহনবাগানও আর ম্যাচের চেহারা বদলাতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে হারের পর ডুরান্ডের ফাইনালে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ট্রফি জিতে নিল লাল-হলুদ। যুবভারতীর এক প্রান্তে তখন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাস, অন্য প্রান্তে হতাশ মোহনবাগান সমর্থকদের ফাঁকা গ্যালারি ডুরান্ড ফাইনালের শেষ ছবিটা এমনই।


