Aaj India Desk, কলকাতা : বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আবেগ আর উদ্যাপনের ধরন নিয়ে কৌতূহল যেমন রয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নও। সেই আবহেই সম্প্রতি পুজোমণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি (Non Veg Food Controversy) ও খাওয়ার বিরোধিতা করে বার্তা দিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। তবে সেই বার্তার পরেই স্পষ্ট ক্ষোভ উগরে দেয় বাঙালিরা। নিজেদের চিরাচরিত অভ্যাস, রীতি নীতি জোরপূর্বক বদলের আশঙ্কায় রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরপরেই প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সোমবার স্পষ্ট জানান, পুজোর আনন্দে বাঙালির চেনা রসনায় কোনও সরকারি হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নেই। নবান্নের শীর্ষ সূত্রের দাবি, এতদিন বাঙালি যেভাবে দুর্গাপুজো উদ্যাপন করে এসেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ধর্মীয় আচার থাকবে তার জায়গায়, আর বাঙালির চেনা উৎসবের খাওয়াদাওয়াও চলবে নিজস্ব ছন্দেই।
কী বলেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ?
সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী মন্তব্য করেন, দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও প্রতিমার আশপাশের এলাকা আমিষ খাবারের মাধ্যমে ‘অপবিত্র’ করা উচিত নয়। মণ্ডপের কাছাকাছি আমিষ খাবারের স্টল না বসানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকে।
ভিএইচপি নেতৃত্বের বক্তব্য, পুজো কমিটিগুলি নিজেদের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সংগঠন হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই মন্তব্যের পরেই পুজো উদ্যোক্তা, খাদ্য ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।(Non Veg Food Controversy)
সরকারের অবস্থান কী?
নবান্ন সূত্রে খবর, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাদের মতাদর্শগত অবস্থান থেকেই কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে প্রশাসন কোনও বাড়াবাড়ি করতে চাইছে না। সরকারের অবস্থান, ধর্মীয় আচারকে সম্মান জানানো হলেও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হবে না। অর্থাৎ পুজোর দিনগুলিতে বিরিয়ানি, চাপ, রোল, কাটলেট থেকে শুরু করে নবমীর মাছ-মাংস সহ বাঙালির পরিচিত খাদ্যাভ্যাসে সরকারি নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা নেই বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। (Non Veg Food Controversy)
উল্লেখ্য, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার মিলন মেলায় পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই দুর্গাপুজো নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুজোর দিনগুলিতে বাঙালিদের পেট পুজো অন্য মাত্রা নেয়। সেখানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এমন নিষেধাজ্ঞা পেয়ে কার্যত ক্ষেপে গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে সেই ক্ষোভ সামলাতেই এবার চটপট নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিল সরকার।


