কলকাতা: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর রাতারাতি অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার রাতেই গ্রেফতার হয়েছে হুমায়ুনের (Humayun Kabir) কাশীপুরের সভার ৩ আয়োজক, আমিনুল শেখ ও গোলাম মোস্তাফা এবং আনিসুর রহমান। এঁদের মধ্যে রেজিনগর থানার লোকনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল শেখ ও কাশিপুর অঞ্চল এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তাফা। আমিনুলই কাশীপুরের জনসভার জন্য থানায় অনুমতি নিয়েছিলেন। এরপর শক্তিপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন আনিসুর রহমান।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই অ্যাকশন
সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনকে (Humayun Kabir) সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “মুর্শিদাবাদে আপনার আস্ফালনটা একটু কমান”! হুমায়ুনকে কার্যত আল্টিমেটাম দিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, “এনাফ ইজ এনাফ! যারা আপনাকে ওই সভায় ডেকেছিল আগে তাদের তুলব। তারপর আপনার কাছে যাব! এটাই আপনার শেষ বক্তব্য!” শুধু তাই নয়, ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের কথাও উল্লেখ করেছিলেন শুভেন্দু। এর কয়েকঘন্টা না কাটতেই ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কি বলেছিলেন হুমায়ুন?
লাগামছাড়া মন্তব্যে বিতর্কে তিনি প্রায়ই জড়িয়েছেন। মমতার আমল থেকেই “হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেব”, “শুভেন্দুকে ঠুসে দেবো”-র মতো একাধিক ধর্মীয় উস্কানিমূলক এবং অপমানজনক মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি ২৬ জুন রেজিনগরের কাশীপুরে একটি জনসভায় বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন (Humayun Kabir) বলেন, “মুসলমানদের জড়ো করে এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব, যে পতাকা বওয়ার লোক পাবে না”!
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার—এসব কিছু বুঝব না।” এখানেই শেষ নয়, কাশীপুরের জনসভায় তাঁর আরও চ্যালেঞ্জ, ‘‘কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।” এইসকল মন্তব্যই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নওদার বিধায়কের (Humayun Kabir) ।
বলা বাহুল্য, তৃণমূলের ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে শুধু গ্রেফতারিই নয়, কোমরে দড়ি পড়ে ঘোরানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতার হয়েছেন ভাঙড়ের শওকত মোল্লা। দুর্নীতি, তোলাবাজি, হুমকির পাশাপাশি এই দুজনকেও একাধিকবার মঞ্চে ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে। সোমবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর মুখেও উঠে এসেছিল এই দুজনের নাম। এখন প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তবে হুমায়ুনের (Humayun Kabir) পালা?


