32 C
Kolkata
Sunday, May 24, 2026
spot_img

তৃণমূলের দায়, বিজেপির হাতিয়ার : বেকারত্বে তুঙ্গে রাজনীতি

Aaj India Desk, হুগলি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগেই শহরের দেওয়াল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার লাইমলাইটে উঠেছে এক চটকদার এবং বিতর্কিত দেওয়াল লিখন। দেওয়ালে লেখা হয়েছে:

“বয়ফ্রেন্ড চাকরী পাচ্ছে না… বয়ফ্রেন্ড না বদলে সরকার বদলান”

প্রথম দেখায় এটি যেন শুধুই হালকা-ফুলকা হাস্যরস, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি যুব মহিলাদের মানসিক অবস্থা এবং ব্যক্তিগত অনিশ্চিয়তা প্রভাব কে ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করার সরাসরি এক রাজনৈতিক কৌশল।

বুদ্ধবাবু এক বক্তব্য ঘরে বিতর্ক যেনো আরও ঘনীভূত ..

রাজনীতিবিদ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন “ওদের প্রেম করার জায়গা দিতে হবে “এই উক্তি এবং দেওয়াল লিখন একত্রে নির্দেশ করছে যে, কেবল সাধারণ রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং যুব মহিলাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রেম এবং চাকরির সমস্যাকে সরাসরি ভোট প্রভাবিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি (BJP)।

সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, চাকরিহীন বা ব্যর্থ বয়ফ্রেন্ডকে কেন্দ্র করে যুব মহিলাদের মধ্যে তৈরি হওয়া insecurity কে রাজনৈতিক কৌশলের জন্য এক অত্যন্ত সহজলভ্য লক্ষ্য। আমাদের সমাজে, বিশেষ করে তরুণ মহিলাদের মধ্যে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার উপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। BJP এই সামাজিক ব্যাধি এবং ভয়কে সরাসরি নির্বাচনী প্রভাবের হাতিয়ার বানাচ্ছে।

BJP-এর চূড়ান্ত চাতুর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেওয়াল লিখনটি একটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক কৌশল তুলে ধরেছে যেখানে যুব মহিলাদের সম্পর্ক, প্রেম এবং চাকরির সমস্যার সঙ্গে সরকারী নীতির তুলনা করে সরাসরি ভোট প্রভাবিত করা হচ্ছে।একজন বিশ্লেষক বলেন, “এটি শুধু মজা নয়। এটি যুব মহিলাদের মানসিক দুর্বলতা ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা। যে সমাজে রাজনৈতিক দল এমন সরল ও সরাসরি কৌশল ব্যবহার করতে পারে, সেখানে আমরা সমাজের নৈতিকতা ও যুব মহিলাদের নিরাপত্তার প্রতি উদ্বেগ হারাতে বসেছি।”

TMC-র ব্যর্থতা

বেকারত্ব এই শব্দটা এখন শুধু একটা অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটা বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রীয় অস্ত্র। আর সেই অস্ত্র নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির টানাপোড়েন এখন চরমে। বাস্তব বলছে, রাজ্যে কর্মসংস্থানের ঘাটতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই দায় কার? আর সেই দায়কে সামনে এনে রাজনৈতিক লাভ তুলতে গিয়ে কি আরও গভীর হচ্ছে সংকট? তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে বহুবার অভিযোগ উঠেছে, শিল্প বিনিয়োগে স্থবিরতা, চাকরি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অনিয়ম এই সব ঘটনাই সাধারণ মানুষের মনে একটাই বার্তা দিয়েছে: “চাকরি আছে, কিন্তু সঠিকভাবে পাওয়া যায় না।” ফলে বেকারত্বের দায় যে তৃণমূলের কাঁধে অনেকটাই জমা হচ্ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

কিন্তু রাজনীতির ময়দানে শুধু দায় থাকলেই হয় না, সেই দায়কে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ঠিক সেই জায়গাটাতেই আঘাত এনেছে। তারা এই বেকারত্বের প্রশ্নকে শুধু ইস্যু করেনি, বরং সেটাকে জনরোষে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন সভা, প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া এমন কি দেওয়াল লিখন সব জায়গায় বার্তা একটাই “চাকরি নেই, কারণ তৃণমূল আছে।”

তবে এখানেই উঠছে বিতর্কের আসল প্রশ্ন। বিজেপি কি সত্যিই সমাধান দিচ্ছে, নাকি শুধুই ক্ষতটা খুঁচিয়ে আরও রক্তাক্ত করছে? সমালোচকরা বলছেন, বিজেপির এই আক্রমণ আসলে রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। কারণ কেন্দ্রীয় স্তরেও বেকারত্বের হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বহুবার। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্পে নিয়োগের হার, যুব সমাজের চাকরির সুযোগ এসব ক্ষেত্রেও তো কেন্দ্রের ভূমিকা এড়ানো যায় না। তাহলে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কি একপাক্ষিক নয়?

অন্যদিকে তৃণমূলও এই আক্রমণের জবাবে বারবার কেন্দ্রের উপর দোষ চাপিয়েছে বলে এসেছে, কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না, প্রকল্প আটকে দিচ্ছে, ফলে কর্মসংস্থান তৈরি করা যাচ্ছে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এই পাল্টা যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ ফলাফল দেখতে চায়, অজুহাত নয়।

সব মিলিয়ে ছবিটা বেশ স্পষ্ট বেকারত্ব এখানে বাস্তব সমস্যা, কিন্তু তা এখন রাজনৈতিক অস্ত্রেও পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের ব্যর্থতা যেমন প্রশ্নের মুখে, তেমনই বিজেপির উদ্দেশ্যও নিখুঁত নয়। একদিকে দায় এড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দায়কে বাড়িয়ে দেখিয়ে লাভ তোলার চেষ্টা এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ যুব সমাজ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই বিতর্কে সমাধান প্রায় অনুপস্থিত। কেউ বলছে না আগামী পাঁচ বছরে কত চাকরি তৈরি হবে, কীভাবে শিল্প আসবে, কীভাবে দক্ষতা উন্নয়ন হবে। শুধু দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপের রাজনীতিতে বেকারত্ব যেন এক অনন্ত চক্রে আটকে পড়েছে।

শেষ কথা একটাই রাজনৈতিক লড়াইয়ে বেকারত্ব এখন হাতিয়ার, কিন্তু বাস্তবে এটা আগুন। আর সেই আগুন নিয়ে খেলতে গিয়ে দুই পক্ষই হয়তো ভুলে যাচ্ছে পুড়ে যাচ্ছে বাংলার ভবিষ্যৎ। এক রাজনীতিবিদ বলেন, “যদি সরকার যুব সমাজের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এমন দেওয়াল লেখা এবং মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাদেরই মুকুটে শিরস্ত্রাণ পরিয়ে দেয়।”

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন