Aaj India Desk, কলকাতা: দলের অন্দরে টানাপড়েন, ভাঙনের জল্পনা এবং সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর প্রয়াসের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শুক্রবার কালীঘাটে (Kalighat) দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর একাধিক সাংগঠনিক পদে রদবদলের ঘোষণা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে রাজ্য সভাপতির পদে। দীর্ঘদিন এই দায়িত্ব সামলানো সুব্রত বক্সীর পরিবর্তে এবার রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। প্রশাসন এবং সংগঠন- দুই ক্ষেত্রেই তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় দলের কঠিন সময়ে তাঁকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের জাতীয় স্তরেও বদল এসেছে। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও, তাকে সহযোগিতা করবেন দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েন, যাঁদের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে দলের উপস্থিতি আরও জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
যুব সংগঠনে আপাতত কোনও পরিবর্তন হয়নি। সায়নী ঘোষ আগের মতোই দায়িত্বে থাকছেন। তবে ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে আনা হয়েছে নতুন মুখ। ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে। এই পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকেই।
শ্রমিক সংগঠনেও বড় পরিবর্তন হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে এই দায়িত্ব পেয়েছেন মলয় ঘটক। শ্রমিক ও শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়া হকার সংগঠনের জন্য আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মদন মিত্রকে। সাম্প্রতিক সময়ে হকারদের সমস্যা ও পুনর্বাসন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রদবদলের মাধ্যমে তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে দলের সমস্ত দায়িত্ব আর এক বা দু’জন নেতার উপর নির্ভর করবে না। এছাড়াও, স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে দলের সমস্ত দায়িত্ব আর শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে রাখা হচ্ছে না। বরং বিভিন্ন স্তরের অভিজ্ঞ ও সক্রিয় নেতাদের সামনে এনে সংগঠনকে নতুনভাবে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। ক্ষমতা হারানোর পর কর্মীদের আস্থা ফেরানো, সংগঠনকে আরও সুসংহত করা এবং নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আগামী দিনে কতটা সফলভাবে দলকে একজোট রাখতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


