Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর অন্দরের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে চলে এল। এবার দলেরই প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) সরাসরি আক্রমণ করলেন কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানকে (Javed Ahmed Khan)। শুধু রাজনৈতিক সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি তিনি, জাভেদের পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, জাভেদ খানের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি আবাসন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলছে। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই একাধিক বহুতল তৈরি করা হয়েছে এবং পরে সেই ফ্ল্যাট সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি নির্মাণের বিরুদ্ধে ভাঙার নোটিশ জারি হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে বলে দাবি তাঁর।
কল্যাণের কথায়, সাতটি বহুতলকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, বহু মানুষ সেখানে ফ্ল্যাট কিনলেও অনেকের কাছেই বৈধ মালিকানার কাগজপত্র নেই। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, অনেক ক্ষেত্রেই সম্পত্তির রেজিস্ট্রি সম্পূর্ণ হয়নি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক নথির বদলে শুধুমাত্র চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়। কল্যাণের দাবি, অনেক ক্রেতার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নগদে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, কেউ কেউ ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন, অথচ সেই অর্থের বিনিময়ে পর্যাপ্ত আইনি নথি তারা পায়নি।
এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণের যোগও খুঁজে পাচ্ছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভাঙার নোটিশ জারি হওয়ার পর সমস্যার সমাধান খুঁজতে নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, অবৈধ নির্মাণকে বৈধ করার জন্য প্রভাব খাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি কুণাল ঘোষের নামও টানেন। যদিও নিজের অভিযোগের সমর্থনে কোনও নথি প্রকাশ করেননি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাঁর মতে, হাজার হাজার পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বহু মানুষ জীবনের সঞ্চিত অর্থ খরচ করে মাথা গোঁজার ঠাঁই কিনেছিলেন, কিন্তু এখন সেই সম্পত্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই চিন্তায় রয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, যাঁদের জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “বর্তমানে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে বিতর্কিত ব্যক্তিরাও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় নিজেদের রক্ষা করার সুযোগ পেয়ে যান।”
কল্যাণ আরও দাবি করেছেন, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সেখানে নাকি জাভেদ খানকে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমীকরণে এলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
সবশেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ বলেন, “উনি এখন যে ওয়াশিং মেশিনে রয়েছেন, জাভেদও সেই পথেই হাঁটছেন। এভাবে চলতে থাকলে সব অপরাধীই একসময় ক্লিনচিট পেয়ে যাবে।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে রক্ষা করা উচিত নয়। অনিয়ম হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং সবচেয়ে আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের স্বার্থকে।


