Aaj India Desk, কলকাতা: আজ পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শপথ নিলেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই ফের অভিযোগের ঝুড়ি নিয়ে হাজির তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একটি দীর্ঘ বার্তায় গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং অভিযোগ অনুযায়ী প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একাধিক সরকারি সংস্থা এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) পক্ষপাতিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অভিষেকের অভিযোগ, যেসব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কথা, সেগুলির ভূমিকা নিয়েও মানুষের মধ্যে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভোট গণনা প্রক্রিয়া, EVM সরানো ও পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ, কন্ট্রোল ইউনিটের অমিল-সহ একাধিক ঘটনাও মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে।
জনগণের প্রকৃত রায় আদৌ সঠিকভাবে বিচার করা হয়েছে কিনা সেই নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি গণনাকেন্দ্রগুলির CCTV ফুটেজ প্রকাশ এবং VVPAT স্লিপের স্বচ্ছ গণনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত সত্য সামনে আনার জন্য এবং সমস্ত সন্দেহ দূর করার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ জরুরি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী থাকে, যখন নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলির উপর মানুষের আস্থা থাকে। কিন্তু এবারের ঘটনায় সেই বিশ্বাসে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে দাবি তাঁর।
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয়েছে, তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং সমর্থকদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বহু তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক, যারা মাটিতে নেমে লড়াই করেছেন, তাঁরা হামলার মুখে পড়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে কোনও রাজনৈতিক কর্মীকেই নিজের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
অভিষেক জানান, দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে তিনি এবং তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশে থাকবেন। পাশাপাশি যাঁরা এই নির্বাচনে লড়াই করেছেন, সেই সমস্ত তৃণমূল কর্মীদের পাশেও দল থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গ-দুই জায়গাতেই তৃণমূল কংগ্রেস শক্তিশালী এবং আপসহীন বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালন করবে।
মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে বলেও জানিয়েছেন অভিষেক। শেষে তিনি তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসা বা হুমকির শিকার হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধও করেন। তাঁর দাবি, আইনি ও গণতান্ত্রিক সমস্ত পথ ব্যবহার করে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াবে দল।


