Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে শনিবার সাজো সাজো রব। বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের জন্মদিবসের পাশাপাশি আজ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন। এই দিনেই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন জল্পনার জন্ম দিল বামেদের মুখপত্র ‘গণশক্তি’ (Ganashakti)।
শপথের দিনেই বদলের ইঙ্গিত
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ১৫ বছর সরকারি বিজ্ঞাপনহীন ছিল সিপিএমের মুখপত্র। শনিবার বিজেপির নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিন সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান হল। প্রথম পাতাজুড়েই প্রকাশিত হল রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন, যেখানে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। সেই বিজ্ঞাপনে রাজ্যবাসীকে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সমীকরণের আলোচনা
দীর্ঘ খরা কাটিয়ে শেষে বামেদের মুখপত্র ‘গণশক্তি’-তে সরকারের বিজ্ঞাপন প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন, ‘গণশক্তি’র প্রভাব ও প্রতীকী গুরুত্ব বুঝেই কি আলিমুদ্দিন চত্বরে মোদী-শুভেন্দুর উপস্থিতি নিশ্চিত করল নতুন বিজেপি সরকার? সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাম শিবির একটি আসন এবং বাম জোট আইএসএফ আরেকটি আসনে জয় লাভ করেছে। সাথে এইবার বাম তরফে ভোটের আধিক্যও লক্ষ্য করা গেছে। ফলে আসন্ন দিনগুলিতে বাম প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উত্থান হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। সেই পরিস্থিতি আগাম আন্দাজ করেই বিজেপি নতুন কৌশল নিয়েছে কিনা তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আবার অন্যদিকে অনেকের বক্তব্য, বিরোধী মতের সংবাদমাধ্যমকেও সরকারি বিজ্ঞাপনের আওতায় আনার মাধ্যমে নতুন সরকার ‘সৌজন্যের রাজনীতি’র বার্তা দিতে চাইছে।
তবে এখনও পর্যন্ত সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে বিজেপির দলীয় বিজ্ঞাপন ‘গণশক্তি’তে প্রকাশিত হলে বাম নেতৃত্বের একাংশ জানিয়েছিল, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এবং তার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা টানা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই বামেদের মুখপত্র ‘গণশক্তি’-তে (Ganashakti) রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এ নিয়ে তৎকালীন সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে মমতার আমলে কখনোই সরকার-বিরোধী অবস্থান নেওয়া সংবাদমাধ্যমগুলিকে বিজ্ঞাপন বণ্টনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে বাম শিবিরের অভিযোগ ছিল, সরকারি বিজ্ঞাপনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিরোধী মতের সংবাদপত্রগুলিকে আর্থিক চাপে রাখা হচ্ছে।
বাস্তবে প্রায় দেড় দশক ধরে ‘গণশক্তি’ (Ganashakti) সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত ছিল, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততার অন্যতম প্রতীক হিসেবেই দেখা হত। শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতে সেই রাজনৈতিক তিক্ততা শেষ হলো বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।


