Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের নব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পরই মিলেছে প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদলের ইঙ্গিত। শপথ শেষ হতেই তিনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে। তার মধ্যেই শনিবারই হঠাৎ রাজ্যের পার্সোনাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (P&AR) দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে (Subrata Gupta) মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হয়েছে। একই দিনে জারি হওয়া আরও একটি বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক শান্তনু বালাকে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডে এই নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।
২৬-এর ভোটের পরিচিত মুখ এবার সরকারি ভবনে
সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) ১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিশেষ রোল অবজারভার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমলাতন্ত্রের অন্দরে একসময় সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যসচিব পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা হত। গোপালিকার পর তিনিই ছিলেন সিনিয়রিটির বিচারে স্বাভাবিক দাবিদার। অনেকের ধারণা ছিল, বাংলার প্রশাসনের শীর্ষপদে আরও এক বাঙালি আমলাই বসতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯১ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ পন্থকে মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ করেন। সেই সুব্রত গুপ্তই এবার শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক টিমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরলেন।
কমিশনের নজরদারির নজরানা ?
বিরোধী মহলের একাংশের প্রশ্ন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের বিশেষ রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্তকেই (Subrata Gupta) কেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হল? তাদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এক প্রাক্তন আমলার দ্রুত এই নিয়োগ রাজনৈতিক জল্পনা বাড়াচ্ছে। ভোটে বিজেপির বিপুল আসনে জয়ের পিছনে প্রশাসনিক বা কমিশন স্তরে কোনও ‘বিশেষ সহায়তা’ ছিল কি না, এই নিয়োগ ঘিরে সেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। তাদের মতে, কমিশনের সাহায্যের প্রতিদান দিতেই এই পদক্ষেপ শুভেন্দুর। যদিও সরকারিভাবে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


