Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্য জুড়ে গত কুড়ি দিনে গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ৭০ জন তৃনমূল নেতা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি নাম। সোমবার সকালে বেহালার ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর মালবিকা বৈদ্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল কর্মী তপন বিশ্বাসকে (Tapan Biswas) গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঘটনায় এলাকা জুড়ে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেনো গ্রেপ্তার করা হলো তপন বিশ্বাসকে ?
বেহালার সরসুনা-নিবেদিতা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তপন বিশ্বাসকে (Tapan Biswas) আটক করা হয়। তাঁকে গাড়িতে তোলার সময়ই বহু স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের অভিযোগ, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করতেন তিনি। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, ব্যবসায়ী এবং বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। জমি সংক্রান্ত বিবাদেও তাঁর নাম উঠে এসেছে।
ধৃত তপন বিশ্বাসকে (Tapan Biswas) ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মালবিকা বৈদ্যের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। যদিও এই ঘটনায় কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।পুলিশ এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত চার্জশিট বা আদালতে তোলার সময়সূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বেহালায় বেহাল তৃনমূল ?
সাম্প্রতিক সময়ে বেহালা এলাকায় তোলাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই শনিবার রাতে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি প্রতারণা, হুমকি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ রয়েছে।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের একের পর এক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান এবং গ্রেপ্তার ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছে, যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিজেপির যেসব নেতা বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে আর্থিক অনিয়ম, কাটমানি বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ কেন দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রশ্নের উত্তর এবং তদন্তে সমতা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


