Aaj India Desk, কলকাতা: একসময় পুরসভার চেয়ারম্যান থেকে সরাসরি পুলিশের জালে। রাজনীতির ময়দানে দাপুটে তৃনমূল নেতা উত্তম কুণ্ডুর (Uttam Kundu) এবার ‘উত্তম পরিণতি’ হল পুলিশের গ্রেপ্তারিতে। জমি দখল, টাকা আত্মসাৎ এবং নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট জোর করে দখলের অভিযোগে কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। বুধবারই কলকাতায় হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার চন্দননগর আদালতে পেশ করা হবে তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার এই নেতাকে।
ঠিক কী অভিযোগ?
কলকাতার প্রোমোটার রাজেশ আগরওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তম কুণ্ডুর (Uttam Kundu) বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁর অভিযোগ, উত্তম কুণ্ডুর জোর করে তাঁর জমি দখল করে নেন। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, নির্মীয়মাণ একটি ফ্ল্যাটও জোর করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে উত্তমের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের পরেই আত্মগোপন
গত ২৫ জুন তারকেশ্বর থানায় উত্তম কুণ্ডুর (Uttam Kundu) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতার ওই প্রোমোটার। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই উত্তমের খোঁজ মিলছিল না বলে পুলিশের দাবি। এরপরই তাঁকে ধরতে তৎপর হয় হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে বুধবার কলকাতায় তাঁর অবস্থানের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর উত্তম কুণ্ডুকে হুগলিতে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে চন্দননগর আদালতে পেশ করবে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। জমি, টাকা এবং ফ্ল্যাট সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি মামলায় আর কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উত্তম কুণ্ডু একসময় হুগলির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। সেই সময় বর্তমান ‘আসল’ তৃনমূল দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। যদিও তখন আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ঋতব্রত। পরবর্তী সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন তৈরি হলে উত্তম কুণ্ডু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির ছেড়ে ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ শিবিরেই যোগ দেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে উত্তম কুণ্ডুকে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও করা হয়। সেই পদে থাকাকালীনই জমি দখল, টাকা আত্মসাৎ এবং নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে তাঁর গ্রেপ্তারি হলো।


