Aaj India Desk, কলকাতা : গতকাল থেকেই তিলজলায় অবৈধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশাসনের ভূমিকা ও ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। সরাসরি সরকারকে ‘অমানবিক’ বলে বিঁধে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির কড়া সমালোচনা করেন।
কেনো এলাকায় বুলডোজার ?
মঙ্গলবার তিলজলার অবৈধ কারখানায় আগুন ধরে যাওয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। রাজ্য সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়ে। রিপোর্টে দাবি করা হয়, যে বহুতলে আগুন লাগে সেটির কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। তিলজলা এলাকায় চিহ্নিত অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে ৪ থেকে ৫টি বুলডোজার নামানো হয়। এলাকায় বড় পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, বেআইনি কারখানা ও নির্মাণের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
অবৈধ মানতে নারাজ স্থানীয়রা
যে বহুতলগুলিতে ভাঙার কাজ চলছে, সেখানকার কিছু বাসিন্দার দাবি, তাঁদের কাছে বৈধ নথি ছিল। তাঁদের অভিযোগ, “জিনিসপত্র সরানোরও সময় দেওয়া হয়নি।”
এরপরেই ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। তিনি বলেন, “যদি কোনও নির্মাণ অবৈধ হয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা হতেই পারে। কিন্তু যেভাবে হঠাৎ বুলডোজার চালিয়ে ঘর ভাঙা হচ্ছে, তা অমানবিক।” তিনি আরও দাবি করেন, যাঁরা সেখানে বসবাস করছেন, তাঁদের নথিপত্র দেখানোর সুযোগ ও নির্দিষ্ট সময় দেওয়া উচিত ছিল। প্রশাসন ক্ষমতার জোর দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করেন নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। তাঁর বক্তব্য, “আদালতে যাওয়া শুধুই দেখানো। তাঁদের ৮০ জন বিধায়ক, ৩০ জন সাংসদ রয়েছে। অন্তত ঘটনাস্থলে যাওয়া উচিত ছিল। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে নিরাপদ জায়গায় গিয়ে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, তিলজলা অভিযানের আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি কারখানা ও নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলেন। এরপরই প্রশাসনের তরফে বুলডোজার অভিযান শুরু হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। নওশাদ সিদ্দিকীর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এই ইস্যুতে ফের নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হয়েছে। একদিকে প্রশাসনের অভিযান, অন্যদিকে বিরোধীদের মানবিকতার প্রশ্ন, সব মিলিয়ে তিলজলা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।


