Aaj India desk, কলকাতা: গতকাল রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিন কবি জয় গোস্বামীকে(Joy Goswami) মঞ্চে ডেকেছিলেন। তারপরে দর্শক আসন থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দর্শকের বিক্ষোভের ফলে কবি জয় গোস্বামী আর মঞ্চে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তসলিমা কে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। ২০০৭ সালে যখন তসলিমাকে বের করে দেওয়া হল কবি জয় গোস্বামী তখন সমর্থন করেছিলেন। তৃণমূল পন্থী বলেও তার বদনাম ছিল। অনেকের সন্দেহ মমতাপন্থী হওয়ার জন্যই কাল তাকে এভাবে হেনস্থা করা হলো। ২৪ ঘন্টা বেরোবার আগেই বিস্ফোরক দাবি করলেন কবি জয় গোস্বামী।
কি অভিযোগ করলেন তিনি ?
এক সাক্ষাৎকারে জয় গোস্বামী (Joy Goswami) চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন। তিনি বলেন, “সময় যত এগবে তত বোঝা যাবে নিজের কাঁধে দোষ নিয়ে কেন সরে এসেছিলাম। আমার কবিতা লেখা হয়নি। কবিতা লিখতে পারিনি, তাই কবিতা লেখা শেখার চেষ্টা করব বলে মুদ্রণ জগৎ থেকে সরে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে হুমকি সংস্কৃতির প্রমাণ পাওয়া মিলেছিল। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও যে হুমকি প্রথা ছিল একদিন সেই প্রমাণও পাওয়া যাবে। সেটা আটকাতে বা প্রতিবাদ করতে আয়ুক্ষয় করতে পারব না। অল্পবয়সিদের বাঁচাতে পারব না।” তার কথায় পরিষ্কার সাহিত্য জগতেও থ্রেট কালচার ছিল। তারই শিকার হয়েছিলেন বর্ষীয়ান কবি।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া কি ?
কবি জয় গোস্বামীর (Joy Goswami) বক্তব্য সামনে আসতেই লুফে নিয়েছে বিরোধীদল গুলি। বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেসের দাবি, জয় গোস্বামীর মতো এত বড় মাপের ‘মমতা-ঘনিষ্ঠ’ সাহিত্যিক নিজেই থ্রেট কালচারের কথা স্বীকার করছেন। এর থেকেই পরিষ্কার রাজ্যে তৎকালীন তৃণমূল জমানায় গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তার কোনো স্থান ছিল না। এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরে দলের বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন কবি জয় গোস্বামী। তবে তৃণমূলের বক্তব্য সরকার বদলেছে এখন অনেকেই নিজের সুবিধা দেখছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন কালকের হেনস্থার পর কবি ভয় পেয়েছেন। তাই তার এই ভোল বদল।


