Aaj India Desk,মালদহ : বীরভূমে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রাজ্যে মিলল বান্ডিল বান্ডিল টাকা। এবার মালদহের (Malda) মঙ্গলবাড়ি এলাকায় এক ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা নগদ, ২০ গ্রাম সোনা এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের যৌথ দল। এই ঘটনায় সুশান্ত হালদার, পিন্টু সরকার এবং গোপাল চাকি নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা সকলেই মালদহের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল কাফ সিরাপ উদ্ধার হয়। সেই মামলায় গ্রেফতার চার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা মালদহের মঙ্গলবাড়ির ওই ফ্ল্যাটের সন্ধান পান। এরপর রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ধৃতদের সঙ্গে নিয়ে বিশেষ পুলিশ দল সেখানে হানা দেয়।
তল্লাশি শুরু হতেই ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের পর বান্ডিল উদ্ধার হয়। বিপুল পরিমাণ নগদ গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় টাকা গোনার যন্ত্র। রাতভর তল্লাশির পর প্রায় আড়াই কোটি টাকা, ২০ গ্রাম সোনা এবং একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাটটির মালিক দিলীপ সাহা। তবে তিনতলার ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন পিন্টু সরকার, যিনি ওষুধের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ দিনাজপুরে উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচার চক্রের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদের উৎস।
অভিযানের পর সোমবার ভোরে মালদহের খইহট্টা এলাকায় একটি গুদামঘরে তল্লাশি চালিয়ে কয়েক হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচারের মাধ্যমে এই বিপুল সম্পত্তি গড়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ফের মালদহে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ফেনসিডিল পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। তবে পাচারচক্রের তদন্তে একসঙ্গে এত বিপুল নগদ ও সম্পত্তি উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।


