Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে একাধিক ভারতীয় নিখোঁজ। তাঁদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে দেশে ফেরানোর আবেদন জানিয়ে ভারত সরকারের দ্বারস্থ হয়েছেন ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পরিবারের সদস্যরা। নেপালের রসুয়া-সহ বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। এর মধ্যেই নিখোঁজ প্রিয়জনের (Missing Indians) খবরের অপেক্ষায় উদ্বেগে দিন কাটছে স্বজনদের।
২৫ আগস্টের পর আর যোগাযোগ নেই
ওড়িশার খোর্ধায় নিখোঁজ সন্দীপ মহাপাত্রের পরিবার জানিয়েছে, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় নেপালে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত সন্দীপ। ২২ আগস্ট নেপালে পৌঁছন তিনি। ২৫ আগস্ট তিব্বত সীমান্তের কাছে যাওয়ার সময় পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা হয় তাঁর। সন্দীপের ভাই স্বরূপ মহাপাত্র জানিয়েছেন, ফোনে কথা বলার সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ওঠানামা করছিল বলে জানিয়েছিলেন সন্দীপ। পরদিন বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর তাঁকে ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর ফোনও বর্তমানে বন্ধ বলে পরিবারের দাবি। তাঁকে উদ্ধারের জন্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেল-এ অভিযোগ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। (Missing Indians)
রসুয়ায় সুড়ঙ্গে আটকে বহু মানুষ
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতেও একই উদ্বেগ। রসুয়ার আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন রাম প্রসাদ। বিপর্যয়ের অন্যতম কেন্দ্র রসুয়া থেকে তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন পরিবার। রামের আত্মীয় দিত্য ঘোষ জানিয়েছেন, এলাকায় প্রায় ১৩৫ জন সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে তাঁরা খবর পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, উদ্ধারকার্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাদা ও জল। এমনকি হেলিকপ্টার নামানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে পরিবারের কাছে খবর এসেছে।ভারত সরকারের কাছে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।(Missing Indians)
তারকেশ্বরের পরিবারেও উৎকণ্ঠা
পশ্চিমবঙ্গের হুগলির তারকেশ্বরের বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্তও নিখোঁজ। ২১ আগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিলেন তিনি। বন্যায় আটকে পড়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে পরিবারের দাবি। চৌলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিসের কোনও খবর না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে আত্মীয়দের মধ্যে। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
৩০০ ভারতীয়ের খোঁজ নেই
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলী নদীর বন্যার পর এখনও ৩০০ জন ভারতীয়ের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং গোরখা জেলায় বন্যা ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেপালে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যস্ত নেপালের জন্য দ্বিতীয় একটি বিমানে ৩৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং খাবারের প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। এর আগে নেপালি কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ টন ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়েছিল কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বন্যা ও ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ভারতীয়দের দ্রুত শনাক্ত করে তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরানোই এখন নিখোঁজদের পরিবারের প্রধান দাবি।


