Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার (BJP Government) ক্ষমতায় আসার পর খুব বেশি সময় কাটেনি। এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। কোথাও মারধরের ঘটনা, আবার কোথাও দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে আরও কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh)। তাঁর নিশানায় কার্যত দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।
কী বললেন অর্জুন সিং?
ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের কোনও নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন জায়গা থেকে একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে। এই প্রসঙ্গেই অর্জুন সিংয়ের বক্তব্য, শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, “কঠোর হওয়া উচিত। যাঁরা এই সব করছে তাঁদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া উচিত।” বারবার নিষেধ করার পরেও দলের একাংশ কেন নিজেদের আচরণ বদলাচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দেখুন, বলে যদি না শোনে তাহলে তো অ্যাকশন নিতে হবে। দলের থেকে বড় কেউ নয়। যাঁর জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
শমীককে কী পরামর্শ দিলেন মন্ত্রী?
এরপরই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উদ্দেশে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অর্জুন। তিনি বলেন, “রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে বার্তা দেওয়ার কোনও অধিকার আমার নেই। আমি শুধু পরামর্শ দিতে পারি। তবে, একটু কঠোর হতে হবে। নয়ত, যে যা ইচ্ছা করবে। তাই কঠোর হতে হবে।”
ডেবরার সংঘর্ষ নিয়েও সরব অর্জুন
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসে। সেই ঘটনায় দলের এক বিধায়ককেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের নেপথ্যে তোলাবাজির অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনা নিয়েও মুখ খুলেছেন পরিবহণমন্ত্রী। অর্জুনের কথায়, যাঁর বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ উঠুক না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে দলের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা রাখা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। এরপরই কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “চাইলে ২৪ ঘণ্টা লাগবে না…২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেনসিলের মতো সোজা হবে।”
সব মিলিয়ে, রাজ্যে বিজেপির অন্দরে তোলাবাজি ও গোষ্ঠী সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, অর্জুন সিংয়ের মন্তব্যে তা আরও একবার প্রকাশ্যে এল। এখন দেখার, তাঁর এই পরামর্শের পর দলীয় নেতৃত্ব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করে।


