Aajindia desk , কলকাতা: দীপাবলিতে শুধু শব্দবাজি নয়। বেশ কিছু বছর ধরে আকাশ ছেয়ে যায় ফানুসে (Sky Lantern)। যদিও ফানুস ওড়ানোর প্রথাটি বেশ প্রাচীন। উত্তর কলকাতার বেশ কিছু বনেদি বাড়িতে, কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছে এই প্রথা।ভোলানাথ ধাম, দর্জি পাড়ার পি কে মল্লিক বাড়ি কিংবা রাধাকান্ত দেবের শোভাবাজার রাজবাড়ির মতো বনেদি পরিবারগুলো এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। লাট্টু, কলসি বা বিভিন্ন জ্যামিতিক আকৃতির এই ফানুসগুলো দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমান। এটি তাঁদের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটা বড় অংশ। কিন্তু এবার এই ফানুস উড়ানো নিয়ে চালু হয়েছে কিছু নিয়ম।
কি নিয়ম চালু করেছে সরকার?
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের নিয়ম মেনে ফানুস ওড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গত বছর বেশ কিছু এলাকায় বাজি বা ফানুস নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই জায়গাগুলোতে পরিবেশ দফতর ও পুলিশ বাড়তি নজরদারি চালাবে। বাজারে ফানুস (Sky Lantern) কিনতে পাওয়া গেলেও, তা এনে যেখানে-সেখানে ওড়ানো যাবে না। ওড়ানোর আগে নির্দিষ্ট ফায়ার রেগুলেশন মেনে লাইসেন্স নিজের কাছে থাকা বাধ্যতামূলক।
হঠাৎ এই নিয়ম কেন?
অতীতে ফানুসের(Sky Lantern) কারণে বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।শহরে বহুতল আবাসন ও ঘিঞ্জি এলাকার সংখ্যা বেশি। জ্বলন্ত ফানুস আচমকা কারোর বারান্দায়, ছাদে কিংবা বিদ্যুৎবাহী তারের ওপর পড়ে বড়সড় অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে আগে। বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতেই সরকার এই বছর ফায়ার অ্যাক্টের ধারা প্রয়োগ করে লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করেছে। তবে এর ফলে সমস্যায় পড়েছে বনেদি বাড়িগুলি।অভিযোগ, ফানুস ওড়ানোর জন্য পুলিশ ও দমকল দফতরের কাছ থেকে স্পষ্ট অনুমতি বা লাইসেন্স পাওয়ার কোনও গাইডলাইন নেই। ফলে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এবং কোথা থেকে এই লাইসেন্স মিলবে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।


