Aaj India desk, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কোনো নির্বাচিত ছাত্র সংগঠন (student union) নেই। এমনকী কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছাত্র সংসদ বা ইউনিয়ন রুম তালাবন্ধ হয়ে রয়েছে। তবুও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ফি’ বা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ছাত্র সংগঠন না থাকা সত্ত্বেও এইভাবে টাকা নেওয়া যায় না। জানতে পেরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর।
কি বলেছে তারা?
উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি ও সংগঠন (student union) না থাকলে কোনোভাবেই এই তহবিল সংগ্রহ করা যায় না। এতদিন ধরে সংগৃহীত এই ফান্ডের টাকা ঠিক কোন কোন খাতে এবং কীভাবে খরচ করা হয়েছে, তার সমস্ত খতিয়ান বা অডিট রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিছুদিন আগে কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে কলেজগুলির ছাত্র ইউনিয়ন রুম (student union) তালাবন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল নির্বাচন না হলেও তৃনমূলের ছাত্র সংগঠন ইউনিয়নের জন্য নির্দিষ্ট ঘরগুলি দখল করে রেখেছিল। শুধু তাই নয় সেখানে তারা অনেক বেআইনি কাজ করত। গত বছর সাউথ কলকাতা ল কলেজের ইউনিয়ন রুমে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হলে এই নিয়ে হইচই পড়ে যায়। এর পর রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে এই ইউনিয়ন ফান্ডের টাকা দুর্নীতির কাজে লাগানো হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


