Aaj India Desk, কলকাতা : ফের পিছিয়ে গেলো পুরসভার (Kolkata Municipality) জরুরি বৈঠক। এর আগেই দুবার স্থগিত হয়েছে পুরসভার বৈঠক। ১৮ মে তে যে মেয়র পারিষদ বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল তাও বাতিল করা হয়েছিল। এরপর মাসিক অধিবেশনের জন্য ২২ মের নির্ধারিত জরুরি বৈঠকও ২১ মে আচমকা স্থগিত করা হয়। কলকাতা পুরসভার প্রকাশিত নোটিস অনুযায়ী, ২২ মে নির্ধারিত ৫৪তম বৈঠক ফের অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। নতুন দিনক্ষণ পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৈঠক স্থগিত হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। বারবার এভাবে পুরসভার বৈঠক থমকে থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুরসভার অন্দরমহল ও সংগঠনের সমন্বয়ের উপর।
কেন গুরুত্বপূর্ণ পুরসভার অধিবেশন?
কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipality) অধিবেশনে সাধারণত নাগরিক পরিষেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজেট বরাদ্দ, স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। ফলে নির্ধারিত বৈঠকগুলি নিয়মিত না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
কলকাতা পুরসভার আওতায় থাকা ১৪৪টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ নাগরিক বিভিন্ন পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। রাস্তা, নিকাশি, বর্জ্য অপসারণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও নাগরিক পরিকাঠামো সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আলগা হচ্ছে ফিরহাদের রাশ ?
বিরোধী মহল এবং প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, ধারাবাহিকভাবে বৈঠক স্থগিত হওয়ার ঘটনা পুর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সাথে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের হাত থেকে পুরসভার রাশ আলগা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সম্প্রতি বৈঠক বাতিলের জেরে ফিরহাদের সাথে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipality) পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের তীব্র দূরত্ব ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে কে আসলে কলকাতা পুরসভা নিয়ন্ত্রণ করছে তা নিয়ে যথেষ্ট জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি।
পুর নির্বাচনের এখনও যথেষ্ট সময় বাকি। সেই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক হিসাবের চেয়ে নাগরিক পরিষেবা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বজায় রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ এবং সেখানে কী কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার উপর নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও শহরবাসীর।


