কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীক ও দলের দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঋতব্রতরা। সেই বৈঠক নিয়েই ঘোরতর আপত্তি জানিয়ে কমিশনকেই একহাত নিলেন ‘মমতাপন্থী’ বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়া উচিত নয়।
সৌগত রায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের কেবলমাত্র অনুমোদিত প্রতিনিধিরাই কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করতে পারেন এবং বৈঠক করতে পারেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন কোনও আবেদন করা হয়নি। তা সত্ত্বেও বহিষ্কৃত ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
তিনি (Saugata Roy) বলেন, “যে কেউ আবেদন করলেই কি নির্বাচন কমিশন (Election Commission) তার সঙ্গে বৈঠক করবে? অতীতে এমন কোনও নজির আছে কি? বহিষ্কৃত ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে কীভাবে কমিশন সময় দিল?” এরপরই বিষয়টিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টেনে এনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেন সৌগত রায় (Saugata Roy)।
তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে ভাঙার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল ব্যবহার করছেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করেই বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে। এমনকি রাম মন্দিরের তহবিল নিয়েও প্রশ্ন তুলে সৌগত রায় (Saugata Roy) অভিযোগ করেন, সেই অর্থও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের উপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। সৌগত রায় (Saugata Roy) বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। যদিও এখনও পর্যন্ত সেই সময় মেলেনি। তবে স্পিকারের প্রতিনিধির কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে সৌগত রায় (Saugata Roy) বলেন, একজন নির্বাচিত সাংসদ কি নিজের লোকসভা কেন্দ্রে বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না? যদি জনপ্রতিনিধিদেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


