Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করে কলকাতা হাইকোর্ট ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) বিরোধী দলনেতা হিসেবে কার্যত স্বীকৃতি দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন। অধিবেশন শেষে সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষের সমালোচনা, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিতর্ক, সই জালিয়াতি মামলার তদন্ত এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি।
কুণাল ঘোষকে কটাক্ষ
দলত্যাগী বা বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee) দাবি করেন, বর্তমানে তাঁদের শিবিরে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষের ধারাবাহিক সমালোচনার জবাবে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, দীর্ঘ সময় জেলবন্দি থাকার কারণে কুণাল ঘোষের সংসদীয় অভিজ্ঞতা সীমিত। তিনি স্পষ্ট বলেন, “যে দীর্ঘদিন সংসদে না থেকে জেলে কাটিয়েছে, সে এই বিষয়ে কিভাবে জানবে ?”
তৃণমূলের তহবিল নিয়ে প্রশ্ন
তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্কে থাকা প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা নিয়ে চলা বিতর্কেও মুখ খোলেন বিরোধী দলনেতা। দলের নির্দেশ অমান্য করে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ককে লেনদেন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে যে দাবি সামনে এসেছে, সেই পদক্ষেপকে সমর্থন করেন ঋতব্রত।
তাঁর বক্তব্য, অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তৃনমূল নেতাদের লুটের ও কাটমানির টাকা সেই তহবিলে ঢুকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণেই অ্যাকাউন্টে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিকে তিনি সমর্থন করেন।
সই জালিয়াতি মামলায় দ্রুত তদন্তের দাবি
বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে চায় সিআইডি। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানান, তিনি নিজে এবং সন্দীপন সাহা-সহ একাধিক ব্যক্তি ইতিমধ্যেই তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর দাবি, তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা উচিত, যাতে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে নতুন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলনেতার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সময় অনুযায়ী পরিবর্তন হওয়া প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর মতে, নিরাপত্তা কাঠামোয় কোনও কাটছাঁট হয়নি। ফলে বিষয়টিকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা উচিত।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসনে বসার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠক থেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। হাইকোর্টের রায়ের পর তাঁর এই সক্রিয় উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।


