Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু (Chandra Kumar Bose)। তবে যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তৃণমূল থেকেও ইস্তফা দিলেন তিনি। সোমবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন চন্দ্র কুমার বসু। আপাতত তিনি রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।
দুই লাইনের চিঠিতে ইস্তফা
সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত, দুই লাইনের চিঠি পাঠিয়ে দলের সমস্ত পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান চন্দ্র কুমার বসু (Chandra Kumar Bose)। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘ব্যক্তিগত কারণেই’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই কারণেই অবিলম্বে তাঁর ইস্তফা কার্যকর করার অনুরোধ জানান।
তবে ইস্তফাপত্রে অন্যান্য দলবদলু নেতাদের মতন তিনি কোনও রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সাংগঠনিক অসন্তোষ বা দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের কথা উল্লেখ করেননি। বরং তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ
২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আস্থা রেখে বিজেপিতে যোগ দেন চন্দ্র কুমার বসু (Chandra Kumar Bose)। সেই বছর বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও কোনও নির্বাচনেই তিনি জয়ী হননি। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চন্দ্র কুমার বসুর তৃণমূলে যোগদান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। বিজেপি ছাড়ার সময় তিনি বলেছিলেন, সেই দলে যোগ দেওয়া তাঁর ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল এবং তৃণমূলে যোগ দিয়ে সেই ভুল সংশোধন করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেও বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করার কারণেই নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। তবে এবার চন্দ্র কুমার বসু রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়াচ্ছেন, নাকি ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন সে বিষয়ে চলছে জল্পনা। যদিও তিনি নিজে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।


