Aaj lndia Desk,কলকাতা : সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধে ফের কড়া বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। ২০০৯ সালের রাইট টু এডুকেশন (RTE) আইনের ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত টিউশন করাতে পারেন না।
সম্প্রতি এই নিয়ম আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিভিন্ন জেলায় নজরদারি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, এমনকি সাসপেনশন বা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যদি সরকারি শিক্ষকরা টিউশন পড়াতে না পারেন, তাহলে সরকারি ডাক্তাররা কেন ব্যক্তিগত চেম্বার করতে পারবেন?
অনেকের মতে, এই দুই পেশার কাজের ধরন ও আইনি কাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা। শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইন সরাসরি প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধ করেছে। কারণ, একজন শিক্ষক নিজের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের টাকার বিনিময়ে আলাদা করে পড়ালে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং স্কুলের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে সরকারি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের বিষয়টি রাজ্য সরকারের পরিষেবা বিধির ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ডাক্তাররা হাসপাতালের নির্ধারিত ডিউটি আওয়ারের বাইরে নিজেদের চেম্বারে রোগী দেখতে পারেন। তবে সরকারি দায়িত্বে গাফিলতি করা বা হাসপাতালের রোগীদের জোর করে ব্যক্তিগত চেম্বারে পাঠানো সম্পূর্ণ বেআইনি।
এছাড়াও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স (NPA) ব্যবস্থা রয়েছে। যাঁরা এই ভাতা গ্রহণ করেন, তাঁরা ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস করতে পারেন না। আবার যাঁরা এনপিএ নেন না, তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রাইভেট চেম্বার করতে পারেন।
অনেকের মতে, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি বাধ্যবাধকতা, পরিষেবা কাঠামো এবং জনস্বার্থের প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই ভিন্ন নিয়ম কার্যকর রয়েছে। যার ফলে দুই পেশাকে একই মানদণ্ডে বিচার করা আইনগতভাবে সঠিক নয়।


