28 C
Kolkata
Friday, September 11, 2026
spot_img

‘এসব বরদাশত করা হবে না’শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোয় গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা

Aaj India Desk, কলকাতা: একদিকে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, অন্যদিকে সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতারি! বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী (Dhirendra Krishna Shastri) ওরফে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল। তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাস (Atunu Das)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তাঁকে আটক করে। পরে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, তারপরই পুলিশের অ্যাকশন

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, ভবানীপুর থানার সামনে কয়েকজনকে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। এমন ঘটনা রাজ্যে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন তিনি। পুলিশ কমিশনারকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর রাতেই অতনু দাসের বাড়িতে পুলিশের অভিযান এবং তাঁকে গ্রেফতার করার ঘটনা সামনে আসে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কি এবার আরও বাড়তে চলেছে?

দুর্গাপুজোয় মাছ-মাংস নিয়ে মন্তব্যেই বিতর্কের সূত্রপাত

সম্প্রতি বাংলা সফরে এসে একাধিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বাঙালিদের আমিষ খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেন তিনি। এই সময়ে মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে তিনি এমন ব্যক্তিদের ‘পাখণ্ডী’ অর্থাৎ ভণ্ড বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

বিষয়টি শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিজেপির নেতাদের একাংশও বাগেশ্বর বাবার এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন। এরপরই তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর কর্মসূচি নেয় কংগ্রেস।

‘অপমানের প্রতিবাদ করলেই অপরাধ?’ ক্ষোভ কংগ্রেসের

অতনু দাসের গ্রেফতারির পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ। তাঁর বক্তব্য, বাগেশ্বর বাবা বাঙালি জাতিকে অপমান করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিবাদ করার কথা থাকলেও কংগ্রেস প্রতিবাদ করায় তাঁদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

প্রদীপ প্রসাদ আরও দাবি করেন, অতীতে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটল বিহারী বাজপেয়ী কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু সেই সময় এমন আইনি পদক্ষেপ হয়নি বলেই তাঁর দাবি।

কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা, বাঙালির সম্মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রতিবাদ থামবে না। ফলে বাগেশ্বর বাবার একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন গ্রেফতারি এবং রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন