Aaj lndia Desk ,নয়াদিল্লি: নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে সোমবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি, তবু আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে আসার কোনও ইঙ্গিত দেননি। এরই মধ্যে দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আমরণ অনশনে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) নিজের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলি যদি সংসদে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি।
রবিবার রাতে যন্তর মন্তরের আন্দোলন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা যদি সফদরজং হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন এবং সংসদে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন, তাহলে সোমবারই অনশন শেষ করা হতে পারে। তাঁর দাবি, এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সংস্কারের দাবি তুলে ধরা।
এদিকে সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে সফল করতে রবিবার রাত থেকেই যন্তর মন্তরে বিপুল সংখ্যক সমর্থক জড়ো হতে শুরু করেন। সিজেপির দাবি, তাদের ‘মিসড কল’ প্রচারে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি রবিবার রাতেই ২০ হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারী যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত ছিলেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের নেতা অভিষেক দিপকে আন্দোলনকারীদের সারারাত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঝপথে এলাকা ফাঁকা হয়ে গেলে পুলিশ আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখারও অনুরোধ করেন। তাঁর আরও দাবি, ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাঁর অনশন অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে সিজেপি সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছে, আন্দোলন দমাতে এলাকায় কাঁদানে গ্যাসের সরঞ্জাম মজুত করা হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে কিছু দুষ্কৃতীকে আন্দোলনের ভিড়ে ঢোকানোর চেষ্টা হতে পারে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছে, সংসদের বাদল অধিবেশন উপলক্ষে নতুন দিল্লি জেলাজুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। ফলে পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। নির্দেশ অমান্য করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২২৩ ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সেই কারণে পার্লামেন্ট স্ট্রিট, সেন্ট্রাল ভিস্তা, কনট প্লেস-সহ গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সফদরজং হাসপাতালের সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের রক্তচাপ, নাড়ির গতি-সহ গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও দীর্ঘ অনশনের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। পরিবার তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন জানালেও দিল্লি হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওয়াংচুক খাবার গ্রহণে সম্মতি দেননি এবং তাঁর অনশন অব্যাহত রয়েছে।


