Aaj India Desk,নয়াদিল্লি : আবহাওয়ার ইতিহাসে নতুন নজির তৈরি করল ২০২৬ সালের আগস্ট। ১৯০১ সালে দেশে নিয়মিতভাবে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ করা শুরু হওয়ার পর থেকে গত ১২৫ বছরের মধ্যে এ বছরের আগস্টকে দেশের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। মৌসম ভবনের পরিসংখ্যান বলছে, সদ্য শেষ হওয়া আগস্টে দেশের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় যা প্রায় ০.৬৭ ডিগ্রি বেশি। শুধু দিনের তাপমাত্রাতেই নয়, রাতের গড় তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও আগস্টে তৈরি হয়েছে সর্বকালীন রেকর্ড। IMD-র ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্রের মতে, এই অস্বাভাবিক গরমের অন্যতম প্রধান কারণ হল আগস্টে দেশে বৃষ্টির বড় ঘাটতি।
১৬.৩ শতাংশ কম বৃষ্টি, প্রভাব পড়েছে বর্ষাতেও
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্টে গোটা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬.৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। দেশের মোট ৭৪১টি প্রশাসনিক জেলার মধ্যে ৩৪৮টি জেলাতেই বৃষ্টির চরম ঘাটতি দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ, দেশের ৪৭ শতাংশের বেশি জেলা এই ঘাটতির মুখে পড়েছে।
জুনে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। জুলাইয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আগস্টের বড় ঘাটতির ফলে গোটা বর্ষাকাল মিলিয়ে বৃষ্টির ঘাটতি বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
কোথাও প্রবল বৃষ্টি, কোথাও খরা
দেশজুড়ে একই ছবি দেখা যায়নি। আগস্টে বঙ্গোপসাগরে ছ’টি নিম্নচাপ তৈরি হয়। সেগুলি মোট ২৬ দিন সক্রিয় ছিল, যেখানে সাধারণত এই সময়ে নিম্নচাপ সক্রিয় থাকে প্রায় ১৬ দিন। ফলে ওড়িশা ও দক্ষিণবঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
তবে ওই নিম্নচাপগুলি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোলেও গুজরাত বা রাজস্থান পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। হিমালয় অঞ্চলে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে পাহাড়ে বৃষ্টি হলেও উত্তর ভারতের সমতল এলাকায় তার প্রভাব পড়েনি। পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, বিহার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে তাই খরার পরিস্থিতি বজায় ছিল।
সেপ্টেম্বরে কী হতে পারে?
সেপ্টেম্বরেও দেশের বহু অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে IMD। তবে উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, পূর্ব-মধ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পূর্বাভাসও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে বায়ুচাপের পরিবর্তন সব মিলিয়েই বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়েছে। তারই ফল হিসেবে একদিকে অতিবৃষ্টি, অন্যদিকে বৃষ্টিহীনতা এবং রেকর্ড উষ্ণতার মতো বিপরীত ছবি দেখা গিয়েছে।


