Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : বিজেপির বিরাট মার্জিনে জয়ের পর থেকেই রণক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গের মাটি। একের পর এক নানান হামলা, ভাঙচুর ও আঘাতের কথা সামনে এলেও এবার সরাসরি বঙ্গ বিজেপির প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারীরই আপ্ত সহায়ক খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। তবে হঠাৎ এই হত্যার নেপথ্যে অন্য কোনো সত্য লুকিয়ে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। (Chandranath Rath)
বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) মধ্যমগ্রামের জনবহুল এলাকা দিয়ে ফিরছিলেন। দুষ্কৃতিরা তাঁর গাড়ি অনুসরণ করে থামিয়ে পরপর গুলি চালায় এবং তাঁর শেষ নিশ্বাস পড়া পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করে। স্থানীয়দের দাবি, চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই ঘাতকরা পালিয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানিয়েছে, এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দুষ্কৃতিরা ভুয়ো নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি ব্যবহার করেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এই মৃত্যুর নেপথ্যে উঠে এসেছে একাধিক জল্পনা। ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর নিয়ে চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সম্প্রতি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর নানান গোপন তথ্য জানা তাঁর পক্ষে অসম্ভব নয়। অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয়ের পর সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও শুভেন্দু অধিকারীর নাম উঠে এসেছে। এই অবস্থায় নতুন করে কোনো বিতর্ক বা গোপন তথ্য যাতে ফাঁস না হতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই চন্দ্রনাথকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের একাংশ অতীতের কয়েকটি ঘটনাও সামনে আনছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী সুভব্রত চক্রবর্তী কাঁথিতে পুলিশ ব্যারাকে নিজের সার্ভিস রিভলভার দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। তিনি শুভেন্দুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন। পরে তাঁর স্ত্রী অভিযোগ তোলেন যে এটি খুন। তার আগে তৃণমূলে থাকাকালীনও শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক প্রদীপ ঝা খুন হয়েছিলেন। ২০২১ সালেও শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহায়ক পুলক লাহিড়ী খুন হয়েছিলেন। অতীতের পাতায়ও বার বার শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠরাই নিশানায় উঠে এসেছে। আবার চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে বিরোধী তৃনমূল কংগ্রেসকে দোষারোপ করে তাদের কোনঠেসা করে ফেলাও এই খুনের উদ্দেশ্য হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তবে পুলিশ এখনও এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক প্রতিশোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা স্পষ্ট হবে তদন্তের পরেই।


