Aaj India Desk, কলকাতা : জেলের হাই-সিকিউরিটি সেল, বন্দি কুখ্যাত জঙ্গি, তারপরও তাঁর হাতে পৌঁছল আইফোন, স্মার্টফোন, OTG কেবল, কার্ড রিডারের মতো নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ! আফতাব আনসারির (Aftab Ansari) সেল থেকে এই সব সামগ্রী উদ্ধারের দাবিকে ঘিরে ফের কাঠগড়ায় প্রেসিডেন্সি জেলের অন্দরমহলের নিরাপত্তা। হাই-সিকিউরিটি নজরদারি পেরিয়ে এমন ডিভাইস ভিতরে ঢুকল কীভাবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আগেও মিলেছিল মোবাইল
আফতাব আনসারির (Aftab Ansari) সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর সেল থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং ৫০০ টাকা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তৎকালীন তদন্তে উঠে এসেছিল, ওই ফোন ব্যবহার করে দুবাইয়ে সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ঘটনার পর দুই কারারক্ষীকে সাসপেন্ড করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরেও ২০১৮ সালে আলিপুর সংশোধনাগারের হাই-সিকিউরিটি অংশে তল্লাশি চালিয়ে আফতাব আনসারির সেল থেকে দুটি স্মার্টফোন ও আটটি SIM কার্ড উদ্ধার হয়েছিল। এবার ফের একই ঘটনা ঘটলো।
কিভাবে বারবার ঢুকছে ফোন ?
চলতি বছর মে মাসে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বড়সড় তল্লাশিতে ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছিল। ঘটনার পর সংশোধনাগারের সুপারিনটেনডেন্ট এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় CID-কে। এই ঘটনার পরেও প্রেসিডেন্সি জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস কীভাবে ঢুকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আফতাব আহমেদ আনসারি (Aftab Ansari), যিনি ফারহান মালিক নামেও পরিচিত, কলকাতার অপরাধজগত ও জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত এক কুখ্যাত দণ্ডিত আসামি। ২০০২ সালের আমেরিকান সেন্টার হামলা মামলায় তাঁকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কলকাতার আমেরিকান সেন্টারের বাইরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচ পুলিশকর্মী নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। তদন্তে হামলার সঙ্গে আফতাব আনসারির যোগসূত্র উঠে আসে। হামলার পরই তাঁকে দুবাই থেকে গ্রেফতার করে ভারতে আনা হয়। আফতাবের বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর মামলায় দোষসিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কলকাতার শিল্পপতি পার্থপ্রতিম রায়বর্মণ অপহরণ মামলা। ওই মামলায় ২০০৯ সালে আফতাব ও তাঁর সহযোগীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচারের একটি মামলায় ২০১৮ সালে গুজরাতের বিশেষ CBI আদালত তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে হাই-সিকিউরিটি সেলের ভিতরে বারবার এতগুলি ইলেকট্রনিক ডিভাইস পৌঁছল কীভাবে? কারা-কর্মীদের নজরদারি, তল্লাশি ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় কোথায় ফাঁক রয়েছে তা নিয়েই এখন চলছে তদন্ত।


