Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের ফলাফলের আগে স্ট্রংরুম (Strong Room) ঘিরে ফের নতুন বিতর্কে সরগরম রাজ্য। গতকালই ঝড় জল উপেক্ষা করে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে চার ঘন্টা বসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই একটি স্ট্রংরুমের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নেতাজি ইন্ডোরের বাইরে ধর্নায় বসেন তৃনমূলের কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছাড়াই স্ট্রং রুমে ইভিএম খোলা হয়েছে। এই নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁদের প্রার্থীরা ঘটনাস্থলে যান। শুধু তৃণমূল নয়, বিরোধী দলের কয়েকজন প্রার্থীও সেখানে উপস্থিত হন বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, সেখানে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ চলছিল।
এই প্রসঙ্গেই শুক্রবার দোলা সেনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যে ভিডিও দেখিয়েছে সেটিই তারা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, “ভিডিওটি যদি ভুয়ো হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।” পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আগেই রাজনৈতিক দলগুলিকে এই বিষয়ে জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, “এটি আইনবিরুদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার অভাব।”
তবে দোলা সেনের বক্তব্যের আগেই নির্বাচন কমিশন জানায়, স্ট্রংরুমে (Strong Room) পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে আগেই সমস্ত প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে ইমেল মারফত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলিকে নোটিস পাঠানো হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের উল্লেখ ছিল। কমিশনের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াই নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে কমিশনের দাবি, তথ্য জানানো সত্ত্বেও তা অস্বীকার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, স্ট্রংরুম (Strong Room) বিতর্ক ঘিরে ক্রমশ রাজনৈতিক চাপ বাড়ার ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য ও কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যেতেই নতুন ব্যাখ্যা সামনে আনা হচ্ছে বলে তাঁদের মত। নির্বাচন কমিশনের তরফে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কথা জানানোর পরেও এই ধরণের মিথ্যা অভিযোগের কারণ ও ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরাও। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার পর তৃণমূল নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য ভুয়ো তথ্য দিয়ে নিজেদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছে। বর্তমানে ইভিএম স্ট্রংরুম ও পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া নিয়ে তৃনমূল ও কমিশনের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট, যা ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


