Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গণনার আগেই কলকাতার একাধিক ইভিএম স্ট্রংরুমে (EVM Strong Room), বিশেষত খুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ও সখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ইভিএম সংক্রান্ত অস্থিরতার জেরে কড়া পদক্ষেপ নিলো কলকাতা পুলিশ। কলকাতার শহরের সাতটি স্ট্রংরুমের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারায় এই আদেশ জারি করেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং ৪ মে ভোট গণনা শুরু হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কী কী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ?
প্রতিটি স্ট্রং রুমের (EVM Strong Room) ২০০ মিটারের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, র্যালি, জনসভা বা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠি, ইট-পাথর, আতশবাজি বা বিস্ফোরক জাতীয় কোনো বস্তু বহন করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত বস্তু ছাড়া অন্য কোনো সামগ্রীও এলাকায় নেওয়া যাবে না। পুলিশ কর্মী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সরকারি আধিকারিকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
কোথায় কোথায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ?
কলকাতা পুলিশের আওতাধীন ৭ টি স্ট্রং রুমগুলি (EVM Strong Room) হল:
- খুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, শহিদ খুদিরাম বোস রোড, কলকাতা-২১
- হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্স, ২০বি জাজেস কোর্ট রোড, কলকাতা-২৭
- এ.পি.সি. রায় পলিটেকনিক কলেজ, যাদবপুর, কলকাতা ৭৯০০৩২
- সেন্ট থমাস বয়েজ হাই স্কুল, ৪ ডায়মন্ড হারবার রোড, কলকাতা-২৩
- সখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, ১৭ লর্ড সিনহা রোড, কলকাতা-৭১
- বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল, ৩৮/২ নরেশ মিত্র সরণি (বেলতলা রোড), কলকাতা-২০
- বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি (পূর্বতন ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজ), ২৫/৩ প্রমথেশ বারুয়া সরণি, কলকাতা-১৯
কেন জারি হল ১৬৩ ধারা ?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট পেপার ও ইভিএমগুলি সুরক্ষিত স্ট্রং রুমে রাখা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই দুটি স্ট্রং রুমে অস্থির পরিস্থিতি এবং শান্তি ভঙ্গ হওয়ায় ভোটের পর সংরক্ষিত ইভিএম ও ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কলকাতা পুলিশ এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
নির্বাচনোত্তর পর্যায়ে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে স্পষ্ট করছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, স্ট্রংরুম ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সম্পূর্ণভাবে থামেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্বচ্ছতা রক্ষা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে গণনাকেন্দ্রের বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর দাবিও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে, বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।


